সেপটিক ট্যাঙ্ক, সোকপিট : পয়োনিষ্কাশনে জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

সম্পাদকীয়

মতামত

রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের মতো পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় ৪ হাজার ৪০৯টি ভবন পরিদর্শন করে ২ হাজার ৮২২টিতে সেপটিক

2026-08-14T03:40:34+00:00
2026-08-14T03:41:22+00:00
 
  শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
মতামত
সেপটিক ট্যাঙ্ক, সোকপিট : পয়োনিষ্কাশনে জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪০ এএম  আপডেট: ১৪.০৮.২০২৬ ৩:৪১ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের মতো পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় ৪ হাজার ৪০৯টি ভবন পরিদর্শন করে ২ হাজার ৮২২টিতে সেপটিক ট্যাঙ্ক পায়নি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ৯২ শতাংশের বেশি ভবনে সোকপিটের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এর ফলে পয়োবর্জ্য সরাসরি ড্রেন, খাল বা লেকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ সংযোগ না থাকলে ভবনে মানসম্মত সেপটিক ট্যাঙ্ক বা অনুমোদিত বিকল্প পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। 

তিন বছর আগেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জরিপে প্রায় একই ধরনের সমস্যা ধরা পড়েছিল। তখন সমন্বিত রোডম্যাপের কথা বলা হয়েছিল। তিন বছর পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ার অর্থ হলো আগের উদ্যোগগুলো যথেষ্ট ছিল না, অথবা সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। 

কোনো ভবনে সেপটিক ট্যাঙ্ক বা সোকপিট না থাকার জন্য শুধু ভবনের মালিককে দায়ী করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রশ্ন হচ্ছে, পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় এতগুলো ভবন কীভাবে অনুমোদন পেল? অনুমোদনের সময় কি নকশায় পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল? নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা হয়েছে কি না সেটা দেখার দায়িত্ব কার? ভবন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগে কি যাচাই করা হয়েছে? প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি। 

নকশা না মানা আর দুর্বল তদারকির কারণে এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক না থাকা একটি বাস্তব সমস্যা। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই বলে কেউ পয়োবর্জ্য সরাসরি জলাশয়ে ফেলবে সেটা হতে পারে না। 

যেসব ভবনে সেপটিক ট্যাঙ্ক বা সোকপিট নেই সেগুলোর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর হচ্ছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো যায়। তবে শুধু জরিমানা, সংযোগবিচ্ছিন্ন বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না সেটা ভেবে দেখতে হবে। যেসব ভবনে অবৈধ সংযোগ আছে, সেগুলো দ্রুত শনাক্ত করে বন্ধ করা জরুরি। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার। একই সঙ্গে বৈধ ও কারিগরিভাবে নিরাপদ বিকল্প নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। নিরাপদ বিকল্প নিশ্চিত না করে কেবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে।


রাজউক চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াসার স্যুয়ারেজ সংযোগ নেই এমন ভবনের জন্য কার্যকর ও টেকসই সমাধান নির্ধারণে বুয়েটসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কারিগরি কমিটি করা হচ্ছে। আমরা বলতে চাই, এই কমিটির সুপারিশ যেন আরেকটি প্রতিবেদন হয়ে ফাইলবন্দি হয়ে না থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের মালিকদের সেপটিক ট্যাঙ্ক, সোক ওয়েল বা উপযুক্ত এসটিপি স্থাপনের জন্য বাস্তবসম্মত সময় বেঁধে দেওয়া যেতে পারে। কোন এলাকায় কোন প্রযুক্তি নিরাপদ, কীভাবে বর্জ্য সংগ্রহ ও শোধন করা হবে, কোন কর্তৃপক্ষ তদারকি করবে সেটাও ঠিক করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকার প্রতিটি ভবনের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার একটি প্রকাশ্য ও হালনাগাদ ডিজিটাল তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি ভবনকে বৈধ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। নতুন ভবনের অনুমোদন ও ব্যবহার শুরুর আগে পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো বাস্তবে আছে কি না, তা বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করতে হবে। যেসব ভবন নিয়ম মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে জরিমানা, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।

গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের অভিজ্ঞতা রাজধানী ঢাকার সামগ্রিক নগর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সতর্কবার্তা। অভিজাত এলাকার ভবন যদি অনুমোদিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ছাড়াই বছরের পর বছর ব্যবহার হতে পারে, তা হলে শহরের অন্য এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন ওঠে। জলাশয় দূষিত হওয়ার পর তা পরিষ্কার করার চেয়ে দূষণ ঠেকানো অনেক বেশি কার্যকর।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা


  বিষয়:   সেপটিক ট্যাঙ্ক  সোকপিট  পয়োনিষ্কাশন  জবাবদিহি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: