সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কী জিনিস

ইমরুল হাসান

মতামত

সাংবাদপত্রে মালিকের ইন্টারভেনশন থাকে না- তা না, কিন্তু সেইটা এডমেনিস্ট্রেটিভ জায়গাগুলাতে যতটা থাকে, সংবাদপত্রের লিড নিউজ কি হবে, আইডিওলজি কি

2026-08-13T19:59:56+00:00
2026-08-13T21:19:27+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬,
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
মতামত
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কী জিনিস
ইমরুল হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম  আপডেট: ১৩.০৮.২০২৬ ৯:১৯ পিএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
সাংবাদপত্রে মালিকের ইন্টারভেনশন থাকে না- তা না, কিন্তু সেইটা এডমেনিস্ট্রেটিভ জায়গাগুলাতে যতটা থাকে, সংবাদপত্রের লিড নিউজ কি হবে, আইডিওলজি কি হবে, কোন কলাম-লেখকের লেখা যাবে, সম্পাদকীয় কি হবে... এইসব খুঁটিনাটি বিষয়ে খুব কমই ইন্টারফেয়ার করেন; যেই কারণে একটা সংবাদপত্রের চরিত্র আসলে মেইনলি সম্পাদক ও সাংবাদিকরাই তৈরি করেন! এবং সংবাদপত্রের বিজনেস চালানোর জন্য মালিকেরা একদল প্রফেশনাল লোকজনের উপরেই ডিপেন্ড করেন যারা সাংবাদিকতার কাজটা করতে পারেন! 

আমার কথা হইতেছে, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ শুধুমাত্র ‘মালিকের হস্তক্ষেপের’ সাথেই জড়িত না, বরং ‘সাংবাদিকতার সিন্ডিকেট’-ও একটা বড় ঘটনা, যেইটা আন-স্পোকেন থাকে বইলা আমার ধারণা কার মত অনুযায়ী পত্রিকা চলবে- মালিক না সম্পাদক? 

অনেকেরই মনে থাকার কথা যে, পলিটিশিয়ান ও রাইটার আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯) সাংবাদিকও ছিলেন, নবযুগ পত্রিকায় কাজ করছেন এবং ‘কৃষক’ (১৯৩৮-১৯৪১) ও ‘ইত্তেহাদ’ (১৯৪৬-১৯৪৮) পত্রিকার এডিটর ছিলেন! 

তো, উনি যখন ‘কৃষক’ পত্রিকার এডিটর তখন কলকাতার সাংবাদিক সমাজে এই তর্ক খুব চালু হইছিল যে, একটা পত্রিকা কি মালিকের মত অনুযায়ি চলবে নাকি এডিটরের মত অনুযায়ি চলবে? 

তখনকার সময়ে বেশিরভাগ পত্রিকা-ই ছিল পলিটিকাল পার্টির মুখপাত্র; যেমন, ‘কৃষক’ ছিল আসলে কৃষক-প্রজা পার্টির পত্রিকা, পরে ‘ইত্তেহাদ’ ছিল মুসলিম লীগের সরোয়ার্দি-আবুল হাশিম গ্রুপের পত্রিকা, এইরকম...।  

এখন, পত্রিকা চালাইতে তো টাকা-পয়সা লাগে! পলিটিকাল দল সবসময় চান্দা দিয়া, পত্রিকার পাঠক বাড়ায়া এইরকম এস্টাবলিশমেন্ট চালাইতে পারতো না, অনেক ব্যবসায়ীরাই আসলে পলিটিকাল দলের ফেভারে এই ইনভেস্টমেন্টগুলা করতেন, কিন্তু যেই ব্যবসায়ীরা ইনভেস্ট করতেছেন আর যেই সাংবাদিকরা সেইখানে চাকরি করতেছেন, দুইটা গ্রুপের ইন্টারেস্ট তো সবসময় মিলতো না, বরং প্রায়ই কনফ্লিক্টিং জায়গায় পৌঁছায়া যাইতো! দেখা যাইতো, মালিক হইতেছে মুসলিম লীগের, কিন্তু সাংবাদিকরা কংগ্রেসের সাপোর্টার। তো, পত্রিকা কেমনে চলবে তাইলে? 

এই জায়গায় আবুল মনসুর আহমদের মতামত ছিল এ রকম- ‘সংবাদপত্র পরিচালন একটা ইন্ডাস্ট্রি...। ধনতন্ত্রি সমাজের অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিতে যেমন সংবাদপত্র-শিল্পও তেমনি, যার টাকা তিনিই মালিক...।

খবরের কাগজে কার মত চলিবে? মালিকের? না সম্পাদকের? সব সাংবাদিক ও অধিকাংশ কাগজে একই মত দেওয়া হইতে লাগিল : সম্পাদকের মত চলিবে। একমাত্র অমি কৃষক-এর সম্পাদকীয় লিখিলাম : মালিকের মত চলিবে...। 

সাংবাদিক এইভাবে পরের জন্য টাকার বিনিময়ে কলম চালাইতে গিয়া এতটুকু মাত্র দেখিবেন যে ঐ সাংবাদিক কর্তব্যের বাহিরে তাঁর স্বাধীনতা যাতে ব্যাহত বা সংকুচিত না হয়। আপনি যদি কংগ্রেসী হন, তবে কংগ্রেস-বিরোধী কাগজে আপনি চাকুরি নিবেন না। যদি নেন, তবে কংগ্রেস-বিরোধী কথাই আপনাকে লিখিতে হইবে...।” (পেইজ ৩৫২-৩৫৩, আত্মকথা- আবুল মনসুর আহমদ, প্রথমা এডিশন ২০১৮, বইটা ফার্স্ট ছাপা হয় ১৯৭৮ সালে) 

মানে, আবুল মনসুর আহমদের পজিশন খুবই ক্লিয়ার, যে, যেহেতু ডেইলি নিউজ-পেপার ছাপানো একটা বিজনেস, অন্য সব বিজনেসের মতো এইখানেও বিজনেসের যিনি মালিক, তার মত-ই প্রায়োরিটি পাওয়া উচিত! 

হাউএভার, জিনিসগুলা এতোটা ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইটও না! মানে, এখনকার সময়ে কোনো পত্রিকার মালিক হয়তো বিএনপি’র এমপি’র ফ্রেন্ড, জামাত-ব্যাশিং করাটা উনার প্রায়োরিটি, অইটুক হইলেই হয়; এর বাইরে, কেউ যদি আল মাহমুদ হেটার হন এবং হুমায়ুন আজাদের সেকুলারিজমের ভক্ত হন, মালিকের তো তেমন বড় কোনও আপত্তি থাকার কথা না! এইরকম স্পেইসগুলা আছে এবং বেশ ভালো-ভাবেই আছে! 

কিন্তু মালিকের হস্তক্ষেপ ছাড়াও স্বাধীনতার আরেকটা বাধা আছে, যেইটা সাধারণত আলাপে আসে না- সাংবাদিকতার ভিতরকার নিজস্ব একটা ঘরানা বা সিন্ডিকেট, যেইটা মালিকের ইন্টারেস্টের সাথে সম্পর্কহীন ভাবেই একটিভ থাকে। 
সংবাদপত্র ও সাংবাদিক-ঘরানা 

আরেকটা ইন্টারেস্টিং কাহিনি আছে চৌধুরী মুঈন উদ্দিনের, উনার “পৃথিবীর গোলাবের বুকে” (২০২৫) বইয়ের পঁচিশ নাম্বার চ্যাপ্টারে (পেইজ ২০৩-২১৫), যেহেতু কোটেশন দিতে গেলে অনেক বড় হয়া যাবে, আমি নিজের মতো কইরা বলি...। 

১৯৬৯ সালের কথা, চৌধুরী মুঈন উদ্দিন ভাবলেন সাংবাদিকতা শুরু করবেন, যেহেতু উনি ছাত্রসংঘের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং অই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর পত্রিকা ‘দৈনিক সংগ্রাম’ ছাপানোর কাজ শুরু হবে, উনি সম্পাদকরে এপ্রোচ করলেন যে, অইখানে চাকরির জন্য এপ্লাই করবেন; কিন্তু অই সম্পাদক তারে খুবই ডিজ-কারেজ করলেন, বললেন, সাংবাদিকতা-ই যদি করতে চাও তাইলে ‘দৈনিক পূর্বদেশ’-এ জয়েন কর! অই পত্রিকাও তখন ছাপা শুরু হবে, অবজারভার-গ্রুপের আন্ডারে, উনাদের সিনেমা-পত্রিকা ‘চিত্রালী’ অনেক পপুলার তখন...।
 
কিনতু মুশকিল হইলো, রিটেন ও ভাইবা’তে ফার্স্ট হওয়ার পরেও উনারে ‘দৈনিক পূর্বদেশ’-এ চাকরি দেওয়া হইলো না। কারণ বাংলাদেশের পত্রিকাগুলাতে তখন (এবং এখনো) বড় বড় সাংবাদিকরা সবাই ‘বামপন্থি’, এবং ইসলামিস্ট রাজনীতি’র সাথে জড়িত কাউরে তো ‘নৈতিকভাবে’ উনারা চাকরি দিতে পারেন না!
 
তখন, চৌধুরী মুঈন উদ্দিন পত্রিকার মালিক হামিদুল হক চৌধুরীর লগে দেখা করলেন, এবং পুরা ঘটনাটা বললেন; হামিদুল হক চৌধুরি বেপারটা বুঝলেন, বললেন যে, আমার লগে অফিসে দেখা কইরো...। অফিসে যাওয়ার পরে হামিদুল হক চৌধুরী উনারে সম্পাদক মাহবুবুল হকের রুমে নিয়া বললেন যে, ও তো আমার নাতি, পূর্বদেশ-এ কাজ করতে চায়, কিছু করা যায় নাকি? মাহবুব সাহেব বললেন যে, ও তো ইন্টারভিউতে ফার্স্ট হইছে, আমি জয়েন করানোর ব্যবস্থা করতেছি...। মানে, মালিক ও সম্পাদক, দুই পক্ষই খুশি! (অবশ্য তিনজনেরই বাড়ি ফেনী!) 

তো, পূর্বদেশ-এ চাকরি হইলেও পরে যখন উনি প্রমোশন পাইয়া স্টাফ রিপোর্টার হইলেন তখন চিফ রিপোর্টার ফয়েজ আহমদ গোস্বা কইরা চাকরি-ই ছাইড়া দিছিলেন!...

মানে, আমি বলতে চাইতেছি, সাংবাদপত্রে মালিকের ইন্টারভেনশন থাকে না- তা না, কিন্তু সেইটা এডমেনিস্ট্রেটিভ জায়গাগুলাতে যতটা থাকে, সংবাদপত্রের লিড নিউজ কি হবে, আইডিওলজি কি হবে, কোন কলাম-লেখকের লেখা যাবে, সম্পাদকীয় কি হবে... এইসব খুঁটিনাটি বিষয়ে খুব কমই ইন্টারফেয়ার করেন; যেই কারণে একটা সংবাদপত্রের চরিত্র আসলে মেইনলি সম্পাদক ও সাংবাদিকরাই তৈরি করেন! এবং সংবাদপত্রের বিজনেস চালানোর জন্য মালিকেরা একদল প্রফেশনাল লোকজনের উপরেই ডিপেন্ড করেন যারা সাংবাদিকতার কাজটা করতে পারেন! 

আমার কথা হইতেছে, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ শুধুমাত্র ‘মালিকের হস্তক্ষেপের’ সাথেই জড়িত না, বরং ‘সাংবাদিকতার সিন্ডিকেট’-ও একটা বড় ঘটনা, যেইটা আন-স্পোকেন থাকে বইলা আমার ধারণা। নিউজপেপার হইতেছে অন্য বিজনেসরে প্রটেক্ট করার একটা নেসেসারি পলিটিকাল টুল। 

তো, তাই বইলা ‘মালিকের হস্তক্ষেপ’ এইখানে থাকে না- তা না, বরং সারা দুনিয়াতেই এখন বড় বড় নিউজ-এজেন্সিগুলা বড় বড় করপোরেট হাউজের আন্ডারে অপারেট করে (কিছু গবর্মেন্ট এজেন্সি বাদে)... কিন্তু সংবাদপত্রের বিজনেস তো এতো প্রফিটেবল কিছু না, তারপরও এইখানে করপোরেট হাউজগুলা কেন ইনভেস্ট করে? 

আমার ধারণা, এইখানে বিজনেসের জায়গাটারেই আমরা লোকেট করতে ফেইল করি, যে, প্রফিট করাটাই বিজনেসের উদ্দেশ্য না- তা না, বরং একটা বিজনেসের প্রফিটেবিলিটি ক্ষমতা-সম্পর্কের সাথে রিলেটেড একটা ঘটনা! ভালো পলিটিকাল কানেকশন না থাকলে বড় বিজনেস-পারসন আপনি হইতে পারবেন না, এমনকি যদি ভালো বিজনেস-কানেকশন না থাকে বড় পলিটিশিয়ান হওয়াটাও টাফ হওয়ার কথা! মানে, বিজনেস এবং পলিটিকসের একটা রিলেশন আছে এবং একটা করপোরেট নিউজ এজেন্সি এখনকার সময়ে আসলে এই রিলেশনের ব্রিজিংয়ের কাজটা করে! 

যার ফলে, আপনি একটা বড় করপোরেট বিজনেস করেন এবং কোনো করপোরেট নিউজ-এজেন্সির লগে খাতির রাখেন না- এইটা মোটামুটি ইম্পসিবল একটা ঘটনা! আর যেহেতু, অনেক সময় রিলেশনের জায়গাটাতে টানা-পোড়ন দেখা দেয়, সেইক্ষেত্রে নিজেরা একটা নিউজ এজেন্সি কিইনা নেয়াটা বা অপারেট করাটা বেটার! সবসময় না হইলেও মাঝে-মধ্যে তো কাজে লাগেই, পলিটিকাল রিলেশন ম্যানেজ করার ক্ষেত্রে। 

এ ছাড়া বাংলাদেশের কনটেক্সটে নিউজপেপার বিজনেস সবসময় যে লস-প্রজেক্ট- তা-ও না, বরং শোনা যায়, এই লসটারে বাড়াইয়া দেখায়া ট্যাক্স-বেনিফিট নেয়ার প্র্যাকটিসও আছে, এবং সংবাদপত্রের অফিস অডিট করাটা তো খুব সহজ কাজ না। কারণ ‘দুর্নীতি’ তো সবারই কম-বেশি আছে, কে বিপদে পড়তে চায়! (মানে, কোনো পত্রিকা অফিসের কোনো ‘দুর্নীতির’ খবর কি কোনদিন কোথাও ছাপা হইতে দেখছেন? কাক তো কাকের মাংস খাবে না...) তারপরে সরকারি-বিজ্ঞাপন, পেপার-ইমপোর্ট- নানান ধরনের বেনিফিট তো আছেই... এইগুলা বলাটাও কিছুটা রিস্কি-ই, কারণ কোনো ডকুমেন্টারি এভিডেন্স তো নাই, বলাবলিও নাই তেমন, যার ফলে এইগুলা যেন ঘটে না এইরকমের ধারনাই এস্টাবলিশড আছে, বাজারে! 

আমি বলতে চাইতেছি, আপনি একটা বড় করপোরেট হাউজ বাংলাদেশে, সংবাদপত্রের সাথে একটা গুড-রিলেশন আপনারে রাখতে হবে, বিজনেসের স্বার্থেই; আর যদি একটা সংবাদপত্রের মালিক হইতে পারেন তাইলে আরো ভালো, অই কমিউনিটি’তে একটা চেয়ারও পাইলেন! 

আর এই কাজে সাংবাদিকরা সংবাদপত্রের মালিকদেরকে হেল্পই করেন, যথা-সম্ভব... যার ভিতর দিয়া জার্নালিজমের জায়গাটা সাফারই করে কম-বেশি... আর এইটা খালি বাংলাদেশের অবস্থা না, বরং সারা দুনিয়ারই রিয়ালিটি এইটা! 
নিউ জার্নালিজম 

যেই কারণে দেখবেন, এখনকার সময়ের ভালো জার্নালিস্টদের খুব কম সংখ্যক-ই বড় বড় করপোরেট নিউজ-মিডিয়াতে জব করেন, বরং ইন্ডিপেন্ডেড নিউজ-মিডিয়াগুলাতে কাজের স্বাধীনতা অনেক বেশি; এমনকি ইন্ডিভিজুয়ালি-ই অপারেট করেন উনারা, নিজেদের ইউটিউব-চ্যানেল বা অনলাইন প্লাটফর্মের ভিতর দিয়া...। 

বাংলাদেশে কিছু অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার আমরা পাইলেও, তাদের মধ্যে জার্নালিস্ট কমই, যাদেরকে আমরা অথেনটিসির জায়গা থিকা, এনালাইটিকাল এক্সিলেন্সের জায়গা থিকা ভরসা করতে পারবো... কিন্তু অই স্পেইসগুলা আমার ধারণা, দিনে দিনে তৈরি হইতে থাকবে, এবং ইমপ্যাক্টফুল হইতে থাকবে... যদিও সেইখানেও অবস্টেকল আছে, একটা সার্টেন অডিয়েন্সের ডিজায়ার ফুলফিল করার একটা টেনশন থাকে... কিন্তু সেইটা আপাতত পরের আলাপ-ই!...
 
‘স্বাধীনতা তুমি’ ফ্রিডম এক্সারসাইজ করার ঘটনা! 
তাইলে, ট্রেডিশনাল সংবাদপত্র কি মারা যাবে? আর সংবাদপত্রের বা সাংবাদিকদের ‘স্বাধীনতা’ কি সম্ভব না? আমার কথা হইতেছে, হিস্ট্রিতে কোনকিছুই পুরাপুরি শেষ হয়া যায় না, তবে দৈনিক সংবাদপত্রের সোশ্যাল ও পলিটিকাল ইমপ্যাক্ট কমতে থাকার কথা, অলরেডি কমতে শুরু করছে বইলা আমি মনে করি...। কিন্তু তাই বইলা পত্রিকা ছাপানো বন্ধ হয়া যাবে না, বরং এইটা একটা মিনিমাম স্কেলে চালু থাকবে বইলা আমি মনে করি, আরো কিছুদিন; যদি না কোনো না কোনওভাবে তারা নিজেদেরকে আপগ্রেড করতে পারে, এমন কিছু অফার করতে পারে যা অন্য মিডিয়াম দিতে পারতেছে না। 

আর এর ইমপ্যাক্ট যে কমতেছে, সেইখানে ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ না থাকারও একটা কন্ট্রিবিউশন আছে বইলা আমি মনে করি; মানে, সংবাদপত্র না খালি, যে কোনো কিছুই যদি ইকনোমিকালি ইন্ডিপেন্ডেড ওয়ে’তে অপারেট করতে না পারে এবং শুধুমাত্র একটা পলিটিকাল টুল হওয়ার বাইরে আর কোনো কন্ট্রিবিউশন না রাখতে পাওে, সোসাইটি’তে এর ইমপ্যাক্ট কমতে না-থাকার কোনো কারণ নাই আসলে! 

তো, এখনকার সময়ে সংবাদপত্ররে রেলিভেন্ট থাকতে হইলে তার ইন্টেলেকচুয়াল ফ্রিডমের স্পেইসটা বাড়াইতে পারতে হবে আসলে, ফ্রিডম এক্সারসাইজ করতে পারতে হবে, যেইটা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার লগে রিলেটেড একটা ঘটনা... এবং যেইটা শুধুমাত্র ‘মালিকের হস্তক্ষেপ’-ই না, বরং ক্ষমতার চাটুকারিতা ও ‘সাংবাদিক সিন্ডিকেটের’ লগে রিলেটেড ঘটনাও! এইটা মানতে পারাটা এবং এইখানে কাজ করতে পারাটা জরুরি একটা জিনিস বইলা আমি মনে করি, বাংলাদেশের সংবাদপত্রের জন্য...। 

লেখক : কবি ও চিন্তক

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   সংবাদপত্র  স্বাধীনতা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: