কৃষক ভালো না থাকলে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে

সম্পাদকীয়

মতামত

কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকরা যদি ভালো না থাকেন, তা হলে দেশের সব শ্রেণির মানুষ ভালো থাকবেন কী করে? কৃষক ভালো থাকলেই

2026-09-30T05:09:11+00:00
2026-09-30T05:09:11+00:00
 
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
সার ও জ্বালানি সংকট
কৃষক ভালো না থাকলে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৯ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকরা যদি ভালো না থাকেন, তা হলে দেশের সব শ্রেণির মানুষ ভালো থাকবেন কী করে? কৃষক ভালো থাকলেই কৃষি উৎপাদন বাড়ে, খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। তাতে খাদ্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা আসে। অথচ সারের সংকট ও জ্বালানির বাড়তি খরচ কৃষকের ওপর একের পর এক চাপ তৈরি করছে।

দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সেচ ডিজেলনির্ভর। ১১৫ টাকা থেকে ডিজেলের দাম বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করায় সেচের খরচ বাড়বে। জমি তৈরি, চাষ, ফসল কাটা, মাড়াই ও কৃষিপণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যায়।

আমন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেচের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হওয়ায় কোথাও কোথাও কৃষককে ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে। বাড়তি জ্বালানি ব্যয় তাদের উৎপাদন খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় জমিতে ধান চাষের খরচ বিঘাপ্রতি কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খরচের তুলনায় ধানের দাম পাওয়া যাবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। ফলন ভালো হলেও কৃষকের লাভ কতটা থাকবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

চাহিদা অনুসারে সারের সরবরাহ অপ্রতুল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সারের কোনো সংকট নেই। এরপরও বলা যায়, সারের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশে বছরে প্রায় ২৭ লাখ টন ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয়। এর একটি বড় অংশ আমদানি করতে হয়। আবার অভ্যন্তরীণ সার-কারখানা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছে না। কোথাও কোথাও কৃষককে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একদিকে সময়মতো সার মিলছে না। অন্যদিকে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে। 

এ অবস্থা চলতে থাকলে বোরো মৌসুমে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দেশের মোট ধান উৎপাদনের বড় অংশ আসে বোরো থেকে। এ ধান প্রায় পুরোপুরি সেচনির্ভর। বোরো মৌসুমে ডিজেল ও সারের সরবরাহে কোনো সমস্যা হলে কৃষকের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এর প্রভাবে ধানের উৎপাদন কমতে পারে। বাজারে চালের দাম বাড়তে পারে। তখন খাদ্যনিরাপত্তায় ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।


কৃষকের দুর্ভোগ নিরসনে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কৃষিকাজে ডিজেল সরবরাহে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করে নির্ধারিত মূল্যে ডিজেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সরাসরি কৃষকের কাছে জ্বালানি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনা করা দরকার। এতে মধ্যস্বত্বভোগী ও কালোবাজারির সুযোগ কমবে।

সারের সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোন ডিলার কত সার পেলেন এবং কতটা বিক্রি করলেন, তার হিসাব ডিজিটাল ব্যবস্থায় নজরদারি করা যেতে পারে। কৃষকের জমির পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সার পাওয়ার ব্যবস্থা করলে কৃত্রিম সংকট ও মজুদদারি কমানো সম্ভব। বেশি দামে সার বিক্রি, ওজনে কম দেওয়া বা কালোবাজারির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে কৃষিতে ডিজেলনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প বাড়াতে হবে। পানিসাশ্রয়ী আধুনিক সেচপদ্ধতিও সম্প্রসারণ করা দরকার। একই সঙ্গে দেশের সার-কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। সার আমদানির ক্ষেত্রে একাধিক উৎস নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কৃষকের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষক যদি উৎপাদন করে লাভ না পান, তা হলে পরবর্তী মৌসুমে আবাদে আগ্রহ হারাতে পারেন। কৃষকের এই অনিশ্চয়তা দেশের খাদ্যব্যবস্থার জন্যও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করা মানে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি  
  বিষয়:   কৃষক  খাদ্যনিরাপত্তা  সার  জ্বালানি সংকট 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: