রাজধানীর দৃশ্যপট দিনে দিনে পাল্টে যাচ্ছে। জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে অবকাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে দৃশ্যপট পাল্টে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু নগরজীবন যখন
একটু বৃষ্টিতে বড় ধরনের ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দেয় তখন মনে হয় এই রাজধানী তো একসময় কত সুন্দর ছিল। এই সুন্দরের অনেক কারণের মধ্যে অন্যতম
একটি কারণ নদী আর খালের সমাহার। এখন সেই খাল তো নেই, খালের কোনো চিহ্নও নেই।
গতকাল সময়ের আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার শিরোনাম হচ্ছে, দখলদারদের কবলে রাজধানীর খাল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শহরের চারপাশে নদী আর ভেতরে বিস্তৃত ছিল অসংখ্য খালের নেটওয়ার্ক। বাস্তবতা হচ্ছে, এসব খাল ছিল শহরের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ।
এ ছাড়াও ছিল নৌ যাতায়াতের মাধ্যম ও পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এসব খাল এখন আর নেই। দখল হয়ে গেছে। যারা দখল করেছে তাদের হাত থেকে এসব খাল উদ্ধারের জন্য কত না পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরি যেন থেকে যায় কল্পনা উড়ে যায়।
রাজধানীতে ধোলাই খাল ছিল বেশ নামকরা। এখন সেই খাল না থাকলেও নাম এখনও রয়ে গেছে ধোলাই খাল। এই ধরনের আরও একটি বড় খাল ছিল আরামবাগে। রাজধানীতে এই ধরনের ছোট-বড় মোট খাল ছিল প্রায় ৭০টি। কিন্তু এখন খালের চিহ্ন মুছে ফেলে হয়ে গেছে বসতবাড়ি। এই বসতবাড়ি বা দোকানপাট করল কারা? এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
দখলদারদের দখলে থাকা এসব খাল উদ্ধার করার জন্য বিগত দিনের অনেক সরকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু উদ্ধারের নামে যা হয়েছে তা শুধু আইওয়াশ। নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, খাল দখলের ইতিহাস ও দখলদারদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে। কারণ প্রতিটি সরকারের ছত্রছায়ায় এসব খাল দখল হয়েছে।
এখন বর্ষাকাল। স্বাভাবিকভাবে কমবেশি বৃষ্টি হবেই। আর একটুখানি বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে পানিতে সয়লাব। আবার কোথাও কোথাও একহাঁটু পানি হয়ে যায়। এই দৃশ্য এখন অনেকের চোখে সহনীয় হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, জীবনযাপনের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন কাজে এই পানিকে উপেক্ষা করেই ঘর থেকে বের হতে হয়। কেন রাস্তায় পানি জমে থাকবে। পানি তো যায় পানির দিকে, যা পানির সহজাত স্বভাব। কিন্তু যেতে পারে না। এই পানি খালে-বিলে যাওয়ার কথা। কিন্তু যেতে পারে না। যে কারণে একটু বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে হচ্ছে জলবদ্ধতা।
জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনে হয়তো বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থা, যেমন ওয়াসা বা সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নেয়। এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু এটি তো ক্ষণস্থায়ী। এই ক্ষণস্থায়ীকে স্থায়িত্বে রূপ দেওয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে কঠোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সময় এসেছে। কারণ বর্তমানে জনগণের ভোটে আসা নির্বাচিত সরকারের অনেক দায়িত্বের মধ্যে এই দখলদারদের কবল
থেকে রাজধানীর খাল উদ্ধার করা ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পুনরুদ্ধারের কাজের জন্য হয়তো সবার কাছে বাহবা পাওয়া যাবে না। কিন্তু সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। একই সঙ্গে সরকারের এই ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাবে। সেই উদ্যোগের অপেক্ষায় রাজধানীবাসী।
সময়ের আলো/জেডি