টেকসই অর্থনীতির ভিত গড়ার চ্যালেঞ্জ

মো. জসিম উদ্দিন

মতামত

একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে তার মানুষের দক্ষতা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার ওপর। রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ বা অবকাঠামো উন্নয়ন অর্থনীতির

2026-06-22T06:13:01+00:00
2026-06-22T06:13:01+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
মতামত
শিক্ষা বাজেট ২০২৬-২৭
টেকসই অর্থনীতির ভিত গড়ার চ্যালেঞ্জ
মো. জসিম উদ্দিন
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:১৩ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে তার মানুষের দক্ষতা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার ওপর। রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ বা অবকাঠামো উন্নয়ন অর্থনীতির গতি বাড়ায়, কিন্তু সেই উন্নয়নকে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই করে দক্ষ মানবসম্পদ। তাই শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকে ব্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি নির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ। আগের অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা বা জিডিপির ১.৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। 

তবে শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ শিক্ষার মান উন্নয়ন, দক্ষতা তৈরি এবং গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে সঠিক পরিকল্পনা অপরিহার্য।

মানবসম্পদ গঠনে শিক্ষার ভূমিকা : বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন প্রতিযোগিতা হচ্ছে জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিতে। যে দেশ দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারছে, তারাই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও এখন কৃষিনির্ভরতা থেকে শিল্প ও সেবাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। 

এই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি জানা, দক্ষ ও উদ্ভাবনী তরুণ প্রজন্ম। শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। তাই জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতের গুরুত্ব বৃদ্ধি অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একটি দক্ষ প্রজন্ম তৈরি হলে তার সুফল শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, পুরো জাতীয় অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হয়।

২০২৬-২৭ বাজেটে শিক্ষায় অগ্রগতি : 

২০২৬-২৭ বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। প্রস্তাবিত মোট বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, এর মধ্যে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি আগের তুলনায় শিক্ষা খাতে সরকারের অগ্রাধিকার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এটি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বড় পদক্ষেপ। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। কারণ উন্নত দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও গবেষণায় জিডিপির তুলনামূলক বেশি অংশ বিনিয়োগ করে আসছে। শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন আনতে বরাদ্দের পাশাপাশি বাস্তবায়ন সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষতা ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয় : 

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা না থাকলে এই জনসংখ্যা অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে না। বর্তমানে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার ঘটছে। তাই বাজেটে কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ এবং শিল্পের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতে ২০২৬-২৭ বাজেটে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার অন্যতম লক্ষ্য দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। শিক্ষাকে শুধু সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং কর্মসংস্থান ও দক্ষতা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ জরুরি :

একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে। এই পর্যায়ে দুর্বলতা থাকলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও এর বড় প্রভাব পড়ে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪৬,৭৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। 

তবে জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়নের প্রতিবেদন অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু এখনও তাদের শ্রেণির উপযোগী ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না এবং প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার প্রায় ১৬.২৫ শতাংশ। তাই বাজেটে শুধু অবকাঠামো নয়, বরং শিক্ষকের মানোন্নয়ন, নিয়মিত উপস্থিতি বৃদ্ধি, পুষ্টি সহায়তা এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ছাড়া জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি তৈরি করা সম্ভব নয়। শৈশবের শিক্ষায় করা এই বিনিয়োগই ভবিষ্যতে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

শিক্ষকের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি : 

শিক্ষার মান সম্পূর্ণ নির্ভর করে শিক্ষকের দক্ষতার ওপর। একজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক শিক্ষার্থীর চিন্তা, সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশে প্রধান ভূমিকা রাখেন। এই গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও আধুনিক পাঠদান পদ্ধতিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ৫০ হাজার শিক্ষককে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং ২৬ হাজার শিক্ষককে জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী দুই বছরের মধ্যে সব শিক্ষককে আধুনিক প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা। শুধু নতুন ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণ করলে শিক্ষার গুণগত মান বাড়বে না; তার জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, উন্নত মর্যাদা এবং কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষকের পেশাগত সক্ষমতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার একটি ইতিবাচক ও যুগোপযোগী পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

গবেষণা-উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে : 

জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো গবেষণা ও উদ্ভাবন। তবে বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ এখনও সীমিত, যা জিডিপির মাত্র ০.৩০ শতাংশ থেকে ০.৩৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী এই সীমিত বিনিয়োগ বাংলাদেশের উদ্ভাবনী সক্ষমতার বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রতিফলন দেখা যায় গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে, যেখানে ২০২৪ সালের সূচকে ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। 

উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব এবং শিল্প খাতের সঙ্গে দুর্বল সমন্বয় এর অন্যতম কারণ। যদিও সরকার দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে, তবে এর বড় অংশ উচ্চতর গবেষণায় যুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ ভবিষ্যতের অর্থনীতি হবে জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই গবেষণায় বিশেষ তহবিল, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা এবং নতুন প্রযুক্তিতে সহায়তা বাড়াতে হবে। গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ালে তা দেশীয় সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পথ তৈরি করবে।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা জরুরি : 

ডিজিটাল যুগে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা অপরিহার্য। স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল কনটেন্ট, অনলাইন শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করবে। বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির সুযোগ বাড়াতে বাজেট বাস্তবায়নে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে আধুনিক শিক্ষার সুফল সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে যায়।

শহর-গ্রামের শিক্ষা বৈষম্য কমাতে হবে : 

বাংলাদেশে শিক্ষার সুযোগ ও মানের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে কাঠামোগত ব্যবধান বিদ্যমান। দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রামাঞ্চলে পড়ালেখা করলেও তারা শহরের তুলনায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অধিকাংশ গ্রামীণ বিদ্যালয় দক্ষ শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও ডিজিটাল সুবিধার সীমাবদ্ধতায় ভুগছে। ফলে উচ্চশিক্ষা ও ভালো ফলাফলের ক্ষেত্রে শহরের শিক্ষার্থীরাই এগিয়ে থাকছে। যদিও শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে, তবে এর সুফল গ্রামীণ পর্যায়ে পৌঁছানো জরুরি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিলে শিক্ষার সমতা বাড়বে এবং জাতীয় উন্নয়নে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূর ও মানোন্নয়ন : 

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বড় অংশই বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বড় অংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং এ খাতে প্রায় ৯৫ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বেসরকারি ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য পাঠদানের মানকে প্রভাবিত করছে। 

তাই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত শিক্ষা বাজেটে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা আনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা জরুরি। এর ফলে শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈষম্য কমবে এবং প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা কম ব্যয়ে মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ পাবে। 

পাশাপাশি শিক্ষকদের উপযুক্ত মর্যাদা নিশ্চিত হলে মেধাবীরা এই পেশায় আরও আকৃষ্ট হবে, যা শিক্ষার গুণগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে একযোগে বড় পরিবর্তন সম্ভব না হলেও ধাপে ধাপে একটি সমতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একটি টেকসই ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি নির্মাণে শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষা বরাদ্দের দক্ষ ব্যবহার : 

বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর কার্যকর বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে প্রতি বছর শিক্ষা খাতের উন্নয়ন বাজেটের একটি অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। তাই শুধু বরাদ্দ বাড়ানো নয়, বরং এর সুষম ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, তাদের দক্ষতা কতটা বাড়ছে এবং তারা কর্মসংস্থানে কতটা যুক্ত হচ্ছে- এসবের ভিত্তিতে ফলাফলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। 

কারণ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের সাফল্য বরাদ্দের পরিমাণে নয়, বরং তা কতটা মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে পারছে তার ওপর নির্ভর করে। তাই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না হলে বাড়তি বরাদ্দও কাক্সিক্ষত ফল দিতে পারে না।

সর্বোপরি বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এ সময়ে সবচেয়ে প্রয়োজন দক্ষ, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গড়ে তোলা। ২০২৬-২৭ বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও এর সুফল পেতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। 

শিক্ষায় বিনিয়োগ শুধু ব্যয় নয়; এটি উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি। কারণ জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে ওঠে দক্ষ মানুষের হাত ধরে। আজকের শিক্ষা খাতে বিনিয়োগই আগামী দিনের সক্ষম অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করবে। তাই ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তির জন্য শিক্ষায় বড় বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।

প্রভাষক, অর্থনীতি বিভাগ
জয়পুরা এসআরএমএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   টেকসই অর্থনীতি  ভিত গড়া  চ্যালেঞ্জ  শিক্ষা বাজে 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: