বিশ্বসংগীতের অন্যতম বড় তারকা শাকিরা আবারও ফিরছেন ইতিহাসের এক অনন্য মঞ্চে। আগামী ৭ এপ্রিল তিনি পারফর্ম করবেন মিসরের গিজার মহান পিরামিডের সামনে; যা প্রাচীন বিশ্বের সাত আশ্চর্যের একমাত্র অবশিষ্ট নিদর্শন।
প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৭ সালে, একই জায়গায় কনসার্ট করে ভক্তদের উন্মাদনায় ভাসিয়েছিলেন শাকিরা। এবার তিনি ফিরছেন নতুন অ্যালবাম ও নতুন উদ্দীপনা নিয়ে। ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে আরবিতে ভক্তদের উদ্দেশে তার বার্তা আরও বাড়িয়েছে উচ্ছ্বাস।
গিজায় প্রত্যাবর্তন : গিজার পিরামিড শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়; এটি মানবসভ্যতার এক প্রতীক। সেই পটভূমিতে কনসার্ট করা মানে শুধু গান গাওয়া নয়, ইতিহাসের সঙ্গে সংলাপ তৈরি করা। ২০০৭ সালে শাকিরার পারফরম্যান্স আজও অনেকে স্মরণ করেন। প্রায় দুই দশক পর সেই মঞ্চে তার ফেরা নিঃসন্দেহে প্রতীকী ও আবেগঘন।
এবারের কনসার্ট তার বিশ্বভ্রমণ ট্যুরের অংশ, যা তার সাম্প্রতিক অ্যালবামকে ঘিরে। অ্যালবামটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, আত্মমর্যাদা ও শক্তির বার্তা বহন করে। ফলে গিজার মতো ঐতিহাসিক স্থানে এই গানগুলোর পরিবেশনা এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
আরবিতে চমক : ঘোষণার চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে শাকিরার একটি ভিডিও, যেখানে তিনি আরবি ভাষায় ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বহু ভাষায় পারদর্শী এই শিল্পী স্প্যানিশ ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্য ভাষাতেও কথা বলতে পারেন। কিন্তু আরবি ভাষায় তার সাবলীল উচ্চারণ ভক্তদের বিস্মিত করেছে। আরবি ভাষা শেখা সহজ নয়: ভিন্ন বর্ণমালা, ডান থেকে বামে লেখা, জটিল উচ্চারণ; সব মিলিয়ে এটি বেশ কঠিন। তবু শাকিরার এই প্রয়াসকে অনেকে সাংস্কৃতিক সম্মান ও সংযোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এপ্রিলজুড়ে ব্যস্ত সূচি : মিসরের কনসার্ট শেষ করে শাকিরা যাবেন জর্ডানের আকাবা, কাতারের দোহা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে। এরপর ভারতেও তার পারফরম্যান্স রয়েছে মুম্বাই ও নয়াদিল্লিতে। এই রুটিং দেখাচ্ছে, তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল কনসার্ট সূচি নয়; বরং একটি কৌশলগত বৈশ্বিক উপস্থিতির অংশ। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি তার ব্র্যান্ডকে আরও বিস্তৃত করছেন।
এফআর