চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানা এলাকায় ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের বাড়িতে কয়েক রাউন্ড গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা বাড়িতে গুলিবর্ষণ করেছে বলে দাবি করেছে ব্যবসায়ীর পরিবার।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। তিনি স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
একই বাড়িতে গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবারও থাকেন। গুলির ঘটনার পর সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করতে সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাসার লোকজন ছাড়াও আশপাশে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
ঘটনার পর মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, চাঁদাবাজদের একটি গ্রুপ নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না পেয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়েছে বলে আমার ধারণা।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০ দিন আগে চাঁদা না পেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দেয় ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’। আমার ধারণা সাজ্জাদই ওই বার্তা দিয়েছিল। এরপর বাসার সামনে তার অনুসারী সন্ত্রাসীরা গুলি বর্ষণ করেছে।
গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, গত জানুয়ারিতে সন্ত্রাসীরা একবার গুলি করেছিল বাড়ির সামনে। ওই ঘটনার পর পুলিশের পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ থাকার কারণে এবার বাড়ির সামনে না এসে পেছনে আসে সন্ত্রাসীরা। গুলি করে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। এভাবে গুলি বর্ষণের কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। গত ২ জানুয়ারি ভোরে ওই বাসায় কয়েক রাউন্ড গুলি করেছিল মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা।
তিনি বলেন, ওই সময় গুলিতে বাসার দরজা জানালার কাচ ভেঙে যায়। বাসার দরজা ও জানালায় গুলিও লাগে। ওই দিনের পর থেকে বাসায় পুলিশের পাহারার ব্যবস্থা করে সিএমপি। শনিবারও পাহারায় যুক্ত সদস্যরা ছিলেন বাসার সামনে। তাদের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শনিবার ভোরে নামাজ শেষ করে সবাই ঘুমাতে যায়। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টা নাগাদ বাসার পেছনে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা জড়ো হতে দেখা যায়। তারা একটার পর একটা গুলি করতে থাকে। সাত থেকে আট রাউন্ড গুলি করে সটকে পড়ে সন্ত্রাসীরা। বাসার নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত পাহারায় থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিষয়টি জানালে তারা দ্রুত ছুটে এসে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ শুরু করে। তার আগেই সন্ত্রাসীরা দ্রুত বাসার সামনে থেকে পালাতে সক্ষম হয়। ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চার সন্ত্রাসী গুলি করছে। তাদের হাতে ছিল এসএমজি, পিস্তল ও শটগান।
গুলি বর্ষণের খবর জানানোর পর সিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভুঁইয়ার নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
এ ব্যাপারে হোসাইন কবির ভুঁইয়া বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে করে ব্যবসায়ীর বাসার সামনে আসে। এরপর কয়েক রাউন্ড গুলি করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেছে। আমাদের ধারণা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের লোকজন চাঁদার জন্য গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, স্মার্ট গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানের টেক্সটাইল, পোশাক, জ্বালানি খাতের ব্যবসা আছে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সময়ের আলো/আআ