ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি, যিনি ১৯৮৯ সাল থেকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন, শনিবার সকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করে। খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে এবং মুসলিম বিশ্বে তীব্র শোক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তেহরানসহ দেশজুড়ে শোক ও বিক্ষোভ
তেহরানের এনগেলাব স্কয়ারে কালো পোশাক পরা হাজারো মানুষ জড়ো হন। তারা খামেনির ছবি হাতে নিয়ে এবং ইরানের পতাকা উড়িয়ে শোক প্রকাশ করেন। জনতারা “আমেরিকার মৃত্যু হোক” স্লোগান দেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আহ্বান জানান।
ইরান সরকার খামেনির মৃত্যুর পর সাত দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করে। মাশহাদে ইমাম রেজা মাজারের গম্বুজে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়, যা শোকের প্রতীক। মাজারে ইবাদতরত মানুষদের চোখে অশ্রু দেখা গেছে।
অন্যান্য শহরে শোক ও বিক্ষোভ
ইসফাহান শহরে বড় ধরনের সমাবেশ হয়েছে, কোম শহরের হযরত মাসুমার মাজারে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। কোমের উপকণ্ঠে জামকারান মসজিদে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়, যা প্রতিশোধের প্রতীক। জানজান শহরেও শোক পালিত হয়েছে।
ইরানের বাইরে শোক ও বিক্ষোভ দেখা গেছে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ, কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের করাচি-তেও। করাচিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেক আহত হয়েছেন।
টেলিভিশনে খামেনির মৃত্যুর খবর
রোববার ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ঘোষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে খামেনির নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি রমজান মাসে শহীদ হওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, আজ ইরান, ইসলামি দেশগুলো এবং বিশ্বের স্বাধীনতার সন্ধানকারী মানুষরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়ংকর হামলার শোক জানাচ্ছে। এমন এক ব্যক্তিত্বের শহীদত্ব বিশ্বের অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলন শুরু করবে।
খামেনির পরিবারও নিহত
আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স এজেন্সি জানিয়েছে, হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্যাটেলাইট ছবি দেখিয়েছে যে, খামেনির বাসভবন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।
ইরানের প্রতিশোধের অঙ্গীকার
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল খামেনির “শহীদত্বের” প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং বলেছে, এটি ইসলামের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির হত্যার কথা ঘোষণা করে বলেন, এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য নয়, বরং “মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়ের প্রতীক।”
তিনি আরও দাবি করেন, খামেনি অত্যন্ত উন্নত গোয়েন্দা ও নজরদারি সিস্টেমের পরেও এড়াতে পারেননি। ট্রাম্প লিখেছেন, এটি ইরানের জনগণের জন্য দেশ পুনরুদ্ধারের এক বড় সুযোগ।
/ইউএমএইচ