২ মাস পর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সারাদেশ

প্রজনন মৌসুমে দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে ফের কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। এতে উপকূলের জেলে পরিবারগুলোতে

2026-03-01T19:49:40+00:00
2026-03-01T19:51:18+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
২ মাস পর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
প্রকাশ: রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম  আপডেট: ০১.০৩.২০২৬ ৭:৫১ পিএম  (ভিজিট : ১৩২)
সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু। ছবি : সময়ের আলো
প্রজনন মৌসুমে দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে ফের কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। এতে উপকূলের জেলে পরিবারগুলোতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে যেতে শুরু করেছেন জেলেরা।

রোববার (১ মার্চ) থেকে প্রবেশ নিষিদ্ধ অভয়াশ্রম ছাড়া অন্য নদী-খালে কাঁকড়া আহরণ করতে পারবেন জেলেরা।

প্রজনন ও জীববৈচিত্র রক্ষার স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার সময়ে কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হয়। এ সময় অনেক জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে কেউ বিকল্প পেশায় যুক্ত হয়েছেন, কেউ ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছেন। নতুন মৌসুম শুরু হওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন তারা।

সুন্দরবন সংলগ্ন হরিনগর জেলে পাড়ার অরুণ মণ্ডল বলেন, সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেই তার পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। অন্য পেশার কাজে তিনি অভ্যস্ত নন। তাছাড়া এলাকায় অন্য কোনো কাজও নেই। এ সময় সংসার চালাতে মহাজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে, কাঁকড়া ধরে ঋণ পরিশোধ করবেন তিনি।

একই এলাকার জেলে নিত্যরঞ্জন মণ্ডল বলেন, দুই মাস নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আমার মতো দরিদ্র জেলেদের চরম দুর্দিন গেছে। বন্ধের দিনগুলোয় সরকারি কোনো ভাতার ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল কেউই সুন্দরবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঁকড়া ধরতে যান না। যারা যান, তারা প্রায় সবাই দরিদ্র।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশনের আওতাধীন পুষ্পকাটি, মান্দারবাড়িয়া, নটাবেঁকি ও হলদেবুনিয়া এলাকা অভয়ারণ্য। এছাড়া দোবেকী ও কাঁচিকাটার ৫২ শতাংশ অভয়ারণ্য ঘোষিত। এছাড়াও সাতক্ষীরা রেঞ্জের সুন্দরবনের মধ্যে অভয়ারণ্য ঘোষিত ছোট কেয়াখালী খাল, বড় কেয়াখালী খাল, খোলশিবুনিয়া খাল ও সাপখালী খাল।

২৫ ফুটের কম প্রশস্ত খালে সারা বছরই কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ থাকে। বাকি অংশের নদী ও খালে বৈধ পাস-পারমিটধারী প্রায় ১৫ হাজার জেলে শুধু কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। 

১৯৯৮ সালে কাঁকড়া রপ্তানির নীতিমালা প্রণয়নের পর থেকেই প্রতিবছর দুই মাস কাঁকড়া ধরার পাস-পারমিট বন্ধ রাখা হয়। 

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা, কৈখালী ও কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের আওতায় ২ হাজার ৯০০টি নৌকার সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতিপত্র আছে। এর মধ্যে কাঁকড়া ধরার নৌকা ১ হাজার ৬০০টি।

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মসিউর রহমান জানান, প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুন্দরবনে বিভিন্ন নদী-খালে দুই মাস জেলেদের কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। 

তিনি আরও জানান, কেউ যেন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরার অনুমতি নিয়ে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে, সে জন্য বনরক্ষীদের টহল ও অন্যান্য কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

তবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারে কাঁকড়া পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সময়ের আলো/আরবিএন 



  বিষয়:   প্রজনন  মৌসুম  সুন্দরবন  সাতক্ষীরা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: