রহমতের দশক শেষে মাগফিরাতের দশক চলছে। ১১ রমজানের প্রথম প্রহর থেকে ২০ রমজানের সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই দশকের সময়। মহান আল্লাহ রমজানের এই দশকে বান্দাদের ক্ষমা করে থাকেন। মানুষ সারা বছর জানা-অজানা অনেক পাপে লিপ্ত হয়। সেসব পাপ থেকে পবিত্র হওয়ার অনন্য সময় রমজান মাস। রমজান মাসে মুমিন-মুসলমান নিজেকে আল্লাহর দরবারে সঁপে দেন।
প্রথম দশকে সব ধরনের অন্যায় থেকে নিজেকে মুক্ত করে আল্লাহর রহমত কামনায় অতিবাহিত করে। তারা আল্লাহর দয়া, করুণা ও অনুগ্রহ লাভে ধন্য হয়। তারপর দ্বিতীয় দশক শুরু করে অতীত গুনাহ থেকে ক্ষমা লাভের আবেদন নিয়ে। একপর্যায়ে গুনাহ থেকেও মুক্তি হয়। আল্লাহ রহমতপ্রাপ্তদের অপরাধ ক্ষমা করে দেন। তারপর আসে নাজাত বা মুক্তির দশক। বান্দা যখন রহমতের চাদরে মুড়িয়ে পাপমুক্ত জীবন নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হয়, তখন তিনি বান্দাকে নাজাত দেন। জাহান্নামের শাস্তির বদলে তার জন্য নির্ধারণ করেন চিরসুখের জান্নাত।
সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) শাবান মাসের শেষ তারিখের এক বক্তৃতায় আমাদের বললেন, ‘হে লোক সকল, তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে একটি মহান মাস যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য একটি নফল কাজ করল, সে ওই ব্যক্তির সমান হবে যে অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ কাজ করল, সে ওই ব্যক্তির সমান হলো যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করল। এটা ধৈর্যের মাস আর ধৈর্যের প্রতিদান হলো জান্নাত। এটা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস, এটা সেই মাস যাতে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করা হয়। যে এ মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সেটা তার জন্য পাপের ক্ষমাস্বরূপ হবে এবং জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তির কারণ হবে। এটা এমন মাস যার প্রথম দশ দিন রহমত, মধ্যম দশ দিন মাগফিরাত আর শেষ দশ দিন নাজাত।