হারের বৃত্তে বন্দি হওয়ার উপক্রমে ছিল ইন্টার মিয়ামি। আগের ম্যাচে তিন গোলের ব্যবধানে হারের ক্ষত শুকানোর আগেই অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ম্যাচের ২৫ মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল তারা।
হারের শঙ্কা যখন চোখ রাঙাচ্ছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হলেন ফুটবল ইতিহাসের মহাতারকা লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন এই জাদুকরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে ইন্টার মিয়ামি।
গতকাল মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) এই ম্যাচে অরল্যান্ডো সিটির মাঠে খেলতে নেমেছিল মিয়ামি। ম্যাচের শুরুটা ছিল স্বাগতিকদের দাপটে। ১৮ ও ২৪ মিনিটে গোল করে মিয়ামিকে স্তব্ধ করে দেয় অরল্যান্ডো। তবে বিরতির পর খোলস ছেড়ে বের হয় মিয়ামি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে তারা একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে। পুরো ম্যাচে ৬২ শতাংশ সময় বল দখলে রাখা মিয়ামি গোলমুখে ৯টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টিই ছিল লক্ষ্যে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এক দর্শনীয় বাঁকানো শটে ব্যবধান কমান ২০ বছর বয়সি উইঙ্গার মাতেও সিলভেতি। গত বছর মেসির সাবেক ক্লাব নুওয়েলস ওল্ড বয়েজ থেকে আসা এই তরুণের ক্যারিয়ারের এটি দ্বিতীয় গোল। এরপর শুরু হয় ‘মেসি শো’। ৫৭ মিনিটে বক্সের জটলার ভেতর থেকে প্রতিপক্ষের চারজন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে লক্ষ্যভেদ করেন মেসি। ৮৫ মিনিটে মেসির সহায়তায় গোল করে দলকে লিড এনে দেন তেলাস্কো সেগোভিয়া।
ম্যাচের অন্তিমলগ্নে ৮৮ মিনিটে মেসিকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন অরল্যান্ডোর কলিন গাসকি। সেই ফ্রি-কিক থেকেই নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন মেসি। যদিও শটটিতে খুব বেশি জোর ছিল না, তবে গোলকিপারের ভুলে বল জালে জড়িয়ে যায়। এই জোড়া গোলের সুবাদে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা এখন ৮৯৮টি।
মিয়ামির জন্য এই জয়টি কেবল তিন পয়েন্টের নয়, বরং এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জনও বটে। অরল্যান্ডোর মাঠে এর আগে ১০ বার চেষ্টা করেও জয়ের মুখ দেখেনি মিয়ামি, একাদশতম প্রচেষ্টায় এসে মিলল প্রথম জয়।
ম্যাচ শেষে মিয়ামি কোচ হ্যাভিয়ের মাসচেরানো মেসির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘সে এই খেলার সর্বকালের সেরা ফুটবলার। একজন নেতা হিসেবে সে অন্যদের যেভাবে অনুপ্রাণিত করে তা অবিশ্বাস্য। আজ (গতকাল) যখন সে আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছিল, আমাদের সামনে সুযোগের দুয়ার খুলে গিয়েছিল। তার কারণেই আমরা ম্যাচটি ঘুরিয়ে দিতে পেরেছি।’
সময়ের আলো/আআ