সুনামগঞ্জের বিশ্বম্বরপুর উপজেলায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাতের আঁধারে অবাধে পাথর লুট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিন ডলুরা নদীর পাড়ে গিয়ে এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে। এ সময় সেখানে ৩০ থেকে ৪০টি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, ট্রাকগুলো ডলুরা এলাকায় প্রবেশ করেছে পাথর লোড করে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিশ্বম্বরপুর থানার ওসি জাহিদুল ইসলামকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মতিন খান বলেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কাগজে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে যে, রাতে কোনোভাবেই পাথর অপসারণ করা যাবে না। তারপরও যদি কেউ এমন করে থাকে তা হলে পাথর অপসারণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। রাতের আঁধারে পাথর লুট হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল মতিন খান বলেন, পাথর লুট হওয়ার খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সম্মতির প্রেক্ষিতে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাধীন ডলুরা নদীর পশ্চিম পাড়ে নিলামের ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩২ ঘনফুট পাথরের মধ্যে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩২ ঘনফুট পাথর নিজ খরচে অপসারণের অনুমোদন দেওয়া হয় পাথর ক্রয়কারীদের। ৮টি শর্তে পাথর অপসারণের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত। এর মধ্যে ৭নং শর্তে উল্লেখ করা হয়, রাতে কোনো পাথর অপসারণ করা যাবে না। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের সময়ের মধ্যে পাথর অপসারণ করতে হবে।
কিন্তু বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কাগজকে পুঁজি করে রাতের আঁধারে ৩০ থেকে ৪০টি ট্রাকে ডলুরা নদীর পশ্চিম পাড় থেকে অবাধে পাথর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিলামে পাথর ক্রয়কারীরা অধিক পাথর লুট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য শর্ত না মেনে রাতের আঁধারে ট্রাকযোগে পাথর বের করে নিয়ে যাচ্ছে। নিলামকৃত পাথর সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন মো. শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই মুহূর্তে সুনামগঞ্জে আছি। রাতে এখান থেকে পাথর বের করে নেওয়ার কোনো ধরনের সুযোগ নেই। তা হলে রাতের আঁধারে পাথর লোড করার পর পাথরভর্তি সব গাড়ি কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
স্থানীয়রা বলছেন, অবাধে পাথর লুট চললেও পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। নিলামের পাথর কী পরিমাণে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রশাসন বা খনিজ সম্পদ বিভাগের কেউ তা তদারকি করছে না। এসব অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই!
সময়ের আলো/এআর