খামেনি হত্যায় ভেঙে পড়ছে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও রণক্ষেত্রে

2026-03-03T06:12:39+00:00
2026-03-03T06:12:39+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
খামেনি হত্যায় ভেঙে পড়ছে পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। 

গত রোববার থেকে দেশজুড়ে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। 

পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায় পাকিস্তান সরকার সারা দেশে সামরিক বাহিনী তলব করেছে এবং বেশ কিছু এলাকায় তিন দিনের জন্য কঠোর সান্ধ্য আইন বা কারফিউ জারি করেছে।

​সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চল থেকে। 

সোমবার ভোরের আগে গিলগিট, স্কার্দু এবং শিগায়ার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়। 

এই অঞ্চলে সংঘর্ষে ১২ জন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। 

এর মধ্যে গিলগিট শহরে ৭ জন এবং স্কার্দু শহরে ৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। 

বিক্ষুব্ধ জনতা গিলগিটে একটি পুলিশ স্টেশন জ্বালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি স্কুল ও দাতব্য সংস্থার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার পর্যন্ত এই অঞ্চলে কারফিউ বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন সরকারি মুখপাত্র শাবির মীর।

​আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনৈতিক মিশনগুলোও এই সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। 

স্কার্দু শহরে বিক্ষোভকারীরা ভারত ও পাকিস্তানের বিতর্কিত সীমান্তে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণকারী জাতিসংঘের সংস্থা (UNMOGIP) এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। 

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, সংস্থাটির ফিল্ড স্টেশন ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

​পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোতেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন সংঘর্ষে ১০ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

 রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আরও ২ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। 

এই উদ্ভূত নিরাপত্তা সংকটের কারণে করাচি ও লাহোরের মার্কিন কনস্যুলেট সোমবারের সমস্ত ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও নাগরিক পরিষেবা বাতিল ঘোষণা করেছে। এছাড়া পেশোয়ারসহ অন্যান্য বড় শহরে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

​পাকিস্তান সরকার আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, খামেনি হত্যার প্রতিবাদে চলমান এই গণবিক্ষোভ দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। 

উল্লেখ্য, ইরানের পর পাকিস্তান ও ইরাকেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস, যার ফলে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া দেশটিতে অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   আয়াতুল্লাহ  আলি  খামেনি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: