দৃশ্য ধারণের আড়ালে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সহশিল্পীকে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকুর নতুন নাটকের শুটিং সেটে অভিনেত্রী সামিয়া অথৈকে সজোরে চড় ও খামচি দিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। মানিকগঞ্জে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা যায়, এই নাটকে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ ছাড়াও অভিনয় করছেন প্রবীণ অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিম, মোমেনা এবং মীর রাব্বী। ঘটনার সূত্রপাত একটি উপহার দেওয়াকে কেন্দ্র করে। তিশার নতুন সিনেমার খবরে আনন্দিত হয়ে ঢাকা থেকে একটি উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন সামিয়া অথৈ। কিন্তু তিশা চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করে সেই উপহার নিতে অস্বীকৃতি জানান।
গত ২ মার্চ অথৈয়ের প্রথম দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় মূল অঘটনটি ঘটে । দৃশ্য ধারণ চলাকালে তানজিন তিশা স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে সবার সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে অথৈকে সজোরে খামচি দিয়ে হাত রক্তাক্ত করে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চরম অপমানজনক ও যন্ত্রণাদায়ক হলেও অথৈ সে সময় বিষয়টি সহ্য করে নেন। তখন মনিটরে বসে পুরো দৃশ্যটি দেখছিলেন অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিম এবং পরিচালক রিংকু।
অপ্রত্যাশিত এই দৃশ্য দেখে সেলিম অবাক হয়ে অথৈয়ের কাছে জানতে চান তিশা কেন এমন আচরণ করলেন। তখনই অথৈ প্রবীণ এই অভিনেতার কাছে তিশার অতীত একটি হুমকির কথা ফাঁস করেন। অথৈ জানান, এর আগে অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে কাজ করার সময় তানজিন তিশা তাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন। শুধু তাকেই নয়, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলসহ আরও অনেককেই ফোন করে ফারহানের সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করেন তিশা।
তিশার কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ফারহান তার ‘জামাই’। পুরোনো সেই ক্ষোভ থেকেই দৃশ্য ধারণের সুযোগ নিয়ে তিশা এই শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ সামিয়া অথৈয়ের।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ মঙ্গলবার শুটিং সেটে আবারও মারধরের শিকার হন অথৈ। আজকের একটি দৃশ্যে অথৈয়ের সংলাপ ছিল, ‘তুই একটা পাগল, তুই এখান থেকে চলে যা’ এবং সেই সঙ্গে তিশাকে চড় মারার কথা ছিল।
অথৈয়ের দাবি, তিনি দৃশ্যটি করার সময় খুব টেকনিক্যালি তিশার গালে আলতো করে আঘাত করেন, যা গায়ে লাগার মতো নয়। কিন্তু ক্যামেরা চালু থাকা অবস্থায় সবার সামনে তিশা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। ইচ্ছামতো গালে চড় মারায় অথৈয়ের বাঁ চোখ ফুলে যায় এবং কানের দুল খুলে পড়ে যায়। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, তিশা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।
তিশার এমন অস্বাভাবিক আচরণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অথৈ বলেন, ইউনিটের সবাই জানেন তিশা এসব ইচ্ছাকৃতভাবে করছেন। সেটে তিনি সবাইকে বসিয়ে রাখতেন, বাথরুমে গিয়ে চল্লিশ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় কাটাতেন। তিনি কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করে সেটে এসেছেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন অথৈ।
এমনকি, মারধরের পর তিশা তাকে কটাক্ষ করে বলেন, এখন এই মারধরের কথা অভিনয়শিল্পী সংঘে জানাবা, জানিয়ে তুমি ভাইরাল হবা? একজন সিনিয়র শিল্পীর মুখে এমন কথা মানায় না বলে আক্ষেপ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, এর আগে মেহজাবীন চৌধুরীর মতো তারকার সঙ্গে কাজ করলেও কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি।
এদিকে, এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তিশার পক্ষ নিয়ে বলেন, দৃশ্য ধারণের জন্যই এমনভাবে সিন পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিশা ইচ্ছা করে কিছুই করেননি, চরিত্রের প্রয়োজনেই তিনি এমনটা করেছেন।
অন্যদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে তানজিন তিশার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং পরবর্তীতেও কোনো যোগাযোগ করেননি।
/ইউএমএইচ