একাত্তরে বাবা কেন শান্তি কমিটিতে ছিলেন, জানালেন আসিফ আকবর

আনন্দ সময় প্রতিবেদক

আনন্দ সময়

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও

2026-09-04T15:54:53+00:00
2026-09-04T15:57:55+00:00
 
  শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আনন্দ সময়
একাত্তরে বাবা কেন শান্তি কমিটিতে ছিলেন, জানালেন আসিফ আকবর
আনন্দ সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৪ পিএম  আপডেট: ০৪.০৯.২০২৬ ৩:৫৭ পিএম
আসিফ আকবর। ছবি : সংগৃহীত
১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। এবার বাবার সে সময়ের ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর।

আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা ছিলেন কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

Advertisement
মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই ১৯৭১ সালে আলী আকবর শান্তি কমিটির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান আসিফ। 

আসিফ আকবর বলেন, ‘আমার বাবা মুসলিম লীগের কুমিল্লা জেলার প্রভাবশালী সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের আদর্শেই বিশ্বাসী ছিলেন। মুসলিম লীগার হওয়ার কারণে শান্তি কমিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে, শান্তি কমিটিতে থাকার উসিলায় তিনি অনেকের জানমাল, বাড়িঘর ও এলাকা রক্ষা করেছেন।’

এই শিল্পীর দাবি, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। এসব ঘটনা তার লেখা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে বলেও জানান তিনি।


পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার বাবার সম্পর্ক কেমন ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, ‘বিষয়টি সরাসরি এভাবে বলা ঠিক হবে না। যেহেতু তিনি অনেকের জীবন ও জানমাল রক্ষা করেছেন, তাই তাকে সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষ বলা যায় না। মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে বাবার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন।’

শুধু ১৯৭১ নয়, ছয় দফা আন্দোলন নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন আসিফ। তার দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর মুসলিম লীগের প্রতিনিধি হিসেবে তার বাবা একটি চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

তবে, সেই চিঠিটি এখন আর পরিবারের কাছে নেই বলে জানান আসিফ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের সময়কার অনেক নথি ও কাগজপত্র তখন সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে, তার বড় ভাইয়েরা ওই ঘটনার বিষয়ে জানেন বলে জানান তিনি।

স্বাধীনতার পর আলী আকবরের কাস্টডিতে যাওয়ার ঘটনাটিও ব্যাখ্যা করেছেন আসিফ। তার ভাষ্য, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তার বাবাকে ফোন করে নিরাপত্তার কারণে কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সে সময় নতুন অনেক যুবক মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তার বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওই পরামর্শের পর ১৭ ডিসেম্বর তার বাবা নিজেই কাস্টডিতে চলে যান।

এরপর তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে জানান আসিফ। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফ আরও জানান, ১৯৭৪ সালে তার বাবা আইনি লড়াই করে এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন।

তিনি বলেন, তার বাবা সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে মুক্তি পাননি, বরং আদালতে আইনি লড়াই করে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েই মুক্তি পেয়েছিলেন। দালাল আইনের অধীনেও তার বাবার কোনো রকম গ্রেফতার বা সাজা হয়নি বলেও দাবি করেন আসিফ।

সময়ের আলো/মহু

  বিষয়:   আসিফ আকবর  শান্তি কমিটি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আনন্দ সময়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: