আরব সাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরজুড়ে টানা চার দিনের সামরিক অভিযানে ইরানের একটি সাবমেরিনসহ মোট ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)-এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সহজভাবে বলতে গেলে, যেসব প্ল্যাটফর্ম বা অস্ত্র থেকে আমাদের লক্ষ্য করে হামলা আসতে পারে, আমরা সেগুলো ধ্বংস করছি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বি-১ ও বি-২ কৌশলগত বোমারু বিমান ব্যবহার করে সমন্বিত আকাশ হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ইরানি নৌবাহিনীর একটি সক্রিয় সাবমেরিন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
মার্কিন পক্ষের দাবি, ধ্বংস হওয়া সাবমেরিনটি ইরানের তুলনামূলক আধুনিক যুদ্ধসামগ্রীর একটি ছিল। এটি উপকূলীয় এলাকায় গোপন অভিযান, টর্পেডো নিক্ষেপ ও মাইন পেতে কৌশলগত ভূমিকা রাখত। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন একটি সাবমেরিন হারানো ইরানের নৌক্ষমতার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক অভিযান চালাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানে ৫০ হাজারেরও বেশি সেনা, ২০০-র বেশি যুদ্ধবিমান এবং একাধিক রণতরী অংশ নিচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অ্যাডমিরাল কুপার জানান, গত চার দিনে ইরানের ভেতরে ও আশপাশে দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। দুই হাজারেরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি ধ্বংস করা এবং নৌঘাঁটিগুলো অকার্যকর করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের প্রধান নৌঘাঁটি ও লজিস্টিক সুবিধাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া, আগুন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দেখা গেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে।
কুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, দশকের পর দশক ধরে ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে। এখন আরব সাগর, হরমুজ প্রণালী বা ওমান উপসাগরে কোনো ইরানি যুদ্ধজাহাজ সক্রিয় নেই।
এদিকে ইরান দাবি করেছিল, তারা একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে সেন্টকম সে দাবি সরাসরি অস্বীকার করে জানায়, মার্কিন কোনো রণতরী ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব দাবি সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।