ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণে আঞ্চলিক সংঘাতের এক ধরনের ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে গিয়েছে। হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন

2026-03-04T15:44:25+00:00
2026-03-04T15:44:25+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম   (ভিজিট : ১৪৫)
ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণে আঞ্চলিক সংঘাতের এক ধরনের ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে গিয়েছে। হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে দেশটি। সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর সংকলিত তথ্য ও অনুমান অনুসারে এই তথ্য জানা গেছে।

শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে। সেখানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের এএন/এফপিএস–১৩২ আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম, যার মূল্য ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। রাডারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিশ্চিত করেছে কাতার ।

এরপর, গত রোববার (১ মার্চ) কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা ভুলবশত গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে এতে তিনটি এফ–১৫ স্ট্রাইকিং ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। তিন যুদ্ধবিমানে থাকা ছয় পাইলট প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমানগুলো আর ফেরেনি। এগুলো প্রতিস্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার।

শনিবার বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় ইরান। এতে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও কয়েকটি বড় ভবন ধ্বংস হয়। ওপেন সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু করা স্যাটকম টার্মিনালগুলোকে এএন/জিএসসি–৫২বি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর স্থাপন ও মোতায়েন ব্যয়সহ প্রতিটির মূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে। 

অন্যদিকে আরব আমিরাতের আল-রুয়াইস শিল্পনগরীতে মোতায়েন করা থাড (THAAD) অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থার এএন/টিপিওয়াই–২ রাডার উপাদান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। ধ্বংস হওয়া রাডারটির মূল্য ধরা হয়েছে আনুমানিক ৫০০ মিলিয়ন ডলার।

সব মিলিয়ে হিসাব করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের প্রায় ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ক্ষতি করেছে ইরান।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই অঞ্চলজুড়ে অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুয়েরিং, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি।

কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলার পর প্রকাশ হওয়া ছবিতে দেখা গেছে, ঘাঁটির ভেতরে একাধিক স্থাপনার ছাদের অংশ ধসে পড়েছে। আগের দিন ইরানের হামলার খবর প্রকাশের পর এসব চিত্র সামনে আসে। একই সময়ে ক্যাম্প আরিফজান ছিল সবচেয়ে আলোচিত লক্ষ্যবস্তু, যেখানে হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ক্যাম্প বুয়েরিংয়ের ভেতর থেকে ধারণ করা একটি বহুল প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে ভেতরে বিস্ফোরিত হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস যাচাইকৃত ফুটেজ ও ছবির ভিত্তিতে জানিয়েছে, শনিবার ও রোববার জুড়ে ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক স্থাপনাকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সেখানে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে। হামলার পর এলাকাজুড়ে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা যায়। রোববার সকাল নাগাদ স্যাটেলাইট চিত্রে ঘাঁটির একটি অংশে অন্তত চারটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এমনকি সোমবার ভোর পর্যন্তও সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরের স্যাটেলাইট চিত্রে একটি বেষ্টনী ঘেরা মার্কিন নৌবাহিনীর বিনোদন জোনের ভেতরে বড় একটি ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নয়, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে ব্যবহৃত নোঙরস্থলগুলোর একটি হিসেবে জেবেল আলি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি অঞ্চলের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশনও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এতে কম্পাউন্ডে সীমিত অগ্নিকাণ্ড এবং সামান্য ভৌত ক্ষতি হয়েছে। দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশনও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।


এ ছাড়া কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। দূতাবাসের আশপাশে ধোঁয়া দেখার এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সীমিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে দূতাবাস ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেল ভবনের পাশের পার্কিং লটে সন্দেহভাজন একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানে। এতে আগুন লাগলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কাঠামোগত ধ্বংস হয়নি।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   ইরান  ইসরায়েল  যুক্তরাষ্ট্র  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: