গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ওড়াকান্দির মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থ ভূমিতে স্নান উৎসব ও মহাবারুণী মেলা আগামী ১৬ই মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছরের মতো এবারও এ অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ লাখ মতুয়ার সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার উৎসবস্থল ঠাকুর বাড়ী পরিদর্শন করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের এমপি ডা. কে এম বাবর।
পরিদর্শন কালে ডা. কে এম বাবর বলেন, মেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং সনাতন সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দ যাতে সুন্দর ভাবে উৎযাপন করতে পারে সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগীতা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, স্নান ও মেলা চলাকালে প্রতিদিনই আমি উপস্থিত থাকবো। সিসি ক্যামেরাসহ যখন যা প্রয়োজন তা করা হবে বলেও তিনি জানান।
পরে ঠাকুর পরিবারের উত্তরসূরীদের সাথে মেলা কেন্দ্রিক মতবিনিময় ও খোঁজ খবর নেন ডা. কে এ বাবর।
আগামী ১৬ মার্চ শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫ তম জন্মতিথি উপলক্ষে স্নানোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে ঠাকুর পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যরা স্নান করে এ স্নানোৎসবের শুভ উদ্বোধন করবেন।
এরপর লাখ লাখ মতুয়া ভক্ত কামনা ও বাসনা সাগরে (বড় আকৃতির পুকুর) পাপ মোচনের জন্য স্নান করবেন। এদিন স্নান উৎসব সকালে শুরু হয়ে চলবে পরের দিন ১৭ মার্চ সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত। আর মেলা চলবে ১৬ তারিখ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত।
ঠাকুর বাড়ীতে তিন দিনব্যাপী মহাবারুণী মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
মেলায় দেশজ, কুটির শিল্প, মৃৎ শিল্প, খেলনাসহ বিভিন্ন খাদ্য ও মিষ্টির দোকান বসবে।
এর আগে, সারা দেশ থেকে লাখ লাখ মতুয়াভক্ত ঢাক, ঢোল বাজিয়ে উলুধ্বনি দিয়ে ঠাকুর বাড়ীতে আসবে। পরে স্নান সহ অন্যান্য ধর্মীয় পর্ব শেষ করে ভক্তরা ফিরে যাবেন।
এ সময় গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজজামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, ঠাকুর পরিবারের উত্তরসূরি পদ্মনাভ ঠাকুর, অমিতাভ ঠাকুর, সুব্রত ঠাকুর ও সম্পদ ঠাকুর উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর জানিয়েছেন, এই উৎসবে সারা দেশ ও প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ থেকে লাখ লাখ মতুয়া ভক্ত উপস্থিত হবেন। ১৬ মার্চ থেকে তিল ধারণের জায়গা থাকবে না ঠাকুর বাড়ীতে। তাই অনুষ্ঠানটি সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সময়ের আলো/আরবিএন