নির্বাচনে জিতেই তারেক রহমান দেশের চিরাচরিত প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতির নজির সৃষ্টি করেন এবং প্রশাসনিক নানা ব্যতিক্রমী সংস্কার শুরু করেন। সরকারের ভিভিআইপি প্রটোকল গ্রহণ না করা, এমপি-মন্ত্রীদেরও অযথা রাস্তায় জনদুর্ভোগ না বাড়াতে উৎসাহিত করা, নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে যাওয়া, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং পুলিশকে ভিভিআইপি প্রটোকলের জন্য রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে না রাখার নির্দেশ— সব মিলিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ক্যারিশম্যাটিক নেতার পরিচয় দেন তিনি।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন— দেশে প্রতিশোধের রাজনীতি চলবে না। ঐক্যের বার্তা দিতে তিনি বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রীতিমতো তাদের বাসায় গিয়ে দেখা করেন। রাজনৈতিক বিভাজনের বাস্তবতায় এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সরকারি ও বিরোধী— উভয় দলকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এতে স্পষ্ট, তিনি সংঘাতের রাজনীতি নয়, সংলাপ ও সহাবস্থানের রাজনীতিই করবেন।
তারেক রহমান গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর জোর দেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোই গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকারি দল ও বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে তবেই গণতন্ত্র শক্ত ভিত ফিরে পাবে। তার বক্তব্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও দায়িত্বশীল আচরণের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তার এ পদক্ষেপ নতুন সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিকে জনতার সামনে তুলে ধরে।
ইতোমধ্যেই তিনি নিজেকে কেবল একজন নীতিনির্ধারক হিসেবে নন, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রতি যত্নশীল একজন প্রশাসক হিসেবেও উপস্থাপন করেছেন। সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন–এ ‘একুশে পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া ছিল তার নেতৃত্বের এক ভিন্নধর্মী প্রকাশ। কেবল হেঁটে পৌঁছানোই তার লক্ষ্য ছিল না, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং তাদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে তিনি হেঁটে গেছেন।
দেশের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই তিনি রাষ্ট্রের খরচ বাঁচাতে নিজের গাড়িতে চলাফেরা করার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি ভিভিআইপি প্রটোকলও সীমিত করেছেন। আগে যেখানে বহরে ১৩–১৪টি গাড়ি থাকত, সেখানে এখন মাত্র চারটি গাড়ি নিয়ে সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে তার গাড়িবহরকেও ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে বেঁচে গেছে। দেশের প্রেক্ষাপটে অতীতের যে কোনো সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ে এখানে তারেক রহমান প্রথম ও ব্যতিক্রম।
ফলে রাজধানীতে যানবাহনের গতি বেড়েছে— আগে যেখানে গড় গতি ছিল প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার, এখন তা ৫.৩ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে মানুষের সময় বাঁচছে, হাজার হাজার ঘণ্টা ব্যয় করে জ্যামে আটকা থাকার দুরবস্থা কমেছে।
সাধারণ মানুষ বলছেন, তারেক রহমানের ক্যারিশমা কেবল ব্যক্তিত্বের দীপ্তিতে নয়, তার দৃঢ় নীতি, দায়িত্ববোধ এবং উদাহরণ স্থাপনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে। সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজন, হেঁটে কর্মসূচিতে যাওয়া, ভিআইপি প্রটোকল সীমিত করা, এসব পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের প্রতি সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক মানবিকতার প্রকাশ।
একসময় প্রধানমন্ত্রীর চলাচল মানেই ছিল দীর্ঘ যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, জনদুর্ভোগ। আজ সেই দৃশ্যপট বদলেছে। রাজধানীর সড়কের স্বাভাবিক গতি এখনো ঠিক আছে। এই পরিবর্তন প্রমাণ করে— একজন নেতার চরিত্র ও সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তেজগাঁও কার্যালয়ে তার প্রথম কর্মদিবস ছিল শনিবার। সেদিন তিনি ঠিক সকাল সকাল কর্মস্থলে প্রবেশ করেন। সময়ানুবর্তিতার এই দৃষ্টান্ত সেদিনই অনেককে মুগ্ধ করে। এমনকি দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি চাকরিজীবীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ জারি করেছে তার সরকার, যার লক্ষ্য প্রশাসনিক গতি বৃদ্ধি এবং সেবাগ্রহণকারী নাগরিকদের সুবিধা নিশ্চিত করা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং পরিত্যক্ত সরকারি ভবনকে চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের নির্দেশ— সব মিলিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সম্প্রসারণের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন তিনি। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেক সুবিধাভোগী পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবে। নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী ৪ কোটি পরিবারকে এই সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪টি উপজেলায় পরীক্ষামূলক যাচাই-বাছাই চলছে। রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা প্রথম পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড সেবা পাবেন। বহু নিম্নআয়ের পরিবার এই উদ্যোগকে নতুন আশার আলো হিসেবে দেখছে।
একইভাবে তার মানবিকতার আরেকটি উদাহরণও চোখে পড়ে। খিলগাঁও থেকে অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যেই এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে পুলিশ। স্কুল থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা স্কুলছাত্রকে নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে মারধর করে এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে ছেলেটির বাবা কাঁদতে কাঁদতে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে তাৎক্ষণিকভাবে ঢুকে পড়লে, পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া পহেলা বৈশাখের আগেই কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রস্তুতিও চলছে। প্রথম পর্যায়ে ৯টি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কৃষিজমি, উৎপাদন ও কৃষিপণ্যের তথ্য সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
এমনকি জনস্বাস্থ্য খাতেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পরিত্যক্ত সরকারি ভবন চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে ক্লিনিক ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু এলজিইডির অধীনেই প্রায় ১৭০টি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। পাশাপাশি ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর কাজও দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ— এই তিন কর্মসূচি মিলিয়ে নতুন সরকারের সামাজিক অঙ্গীকার সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের পর ঐক্য, গণতন্ত্র ও পুনর্গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিফলনের নানা পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
এখন মূল চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগগুলো দেশের সামাজিক সুরক্ষা খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারও বাস্তবায়িত হবে— এমনটাই মনে করেন সাধারণ মানুষ।
সময়ের আলো/আআ