এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অভিষেক মন্দ হয়নি বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করেছে পিটার বাটলারের দল। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেও ২-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছে আফঈদা-ঋতুপর্ণারা। শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলার মেয়েদের প্রতিপক্ষ গ্রুপের আরেক শক্তিশালী দল উত্তর কোরিয়া। ম্যাচটি সামনে রেখে গতকাল মাঠে ঘণ্টা দুই অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। অনুশীলন শেষে অপেরা হাউসসহ সিডনির দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন মারিয়া, তহুরা, মনিকা, আফঈদারা। নিজেদের চাঙ্গা রাখতেই মূলত এই ব্যবস্থা।
বুধবার সকালে সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে দলের জন্য একটি নির্ধারিত রিকভারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সেশনে খেলোয়াড়রা হালকা ফিটনেস ট্রেনিং, স্ট্রেচিং এবং বল নিয়ে সংক্ষিপ্ত অনুশীলন করে। এরপর দুপুরের দিকে পুরো দল সিডনির বিখ্যাত স্থাপনাগুলো পরিদর্শনে বের হয়। খেলোয়াড়রা এ সময় সিডনি অপেরা হাউস, হারবার ব্রিজ এবং রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনের মতো বিশ্বখ্যাত স্থানগুলো ঘুরে দেখেন। দলের অনেক সদস্যই এই প্রথম সিডনির ঐতিহাসিক জায়গাগুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেলেন, যা তাদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করে।
এর আগে অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন দলের গোলরক্ষক কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল। তিনি জানান, ‘আজ (গতকাল) আমাদের একটা ভিডিও সেশন আছে। সেখানে চীনের বিপক্ষে যে ভুলভ্রান্তি ছিল সেসব নিয়ে কাজ করা হবে।’ চীনের বিপক্ষে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স উপহার দেওয়াতে খুশি কোচ। বিশেষ করে গোলরক্ষক মিলি আক্তারের পারফরম্যান্স ছিল নজককাড়া। এ ব্যাপারে মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘মেয়েরা পরিকল্পনামাফিক খেলেছে। এতে করে আমরা খুশি। আমাদের মেয়েদের আনপ্রেডিক্টেবল বলা হলেও মেয়েরা কিন্তু আমাদের কথাগুলো খুব মনোযোগ সহকারে শুনে এবং সেই অনুযায়ী মাঠে পারফর্ম করে।’
গোলরক্ষক রূপনা চাকমার পরিবর্তে হঠাৎ মিলিকে মাঠে নামানো হলো। এই প্রসঙ্গে গোলরক্ষক কোচ জানান, ‘আসলে মিলিকে নিয়ে আমাদের দুই মাস আগেই পরিকল্পনা করা। ওকে আমরা চায়নার বিপক্ষে মাঠে নামাব। বাটলারের সঙ্গে আলোচনা করেই এটা সেট করা হয়েছে। নারী লিগ থেকেই এ পরিকল্পনা চলছিল। মূলত মিলির উচ্চতাকে বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মাঠে নেমে মিলি সেটা প্রমাণ করেছে।’
চীনের বিপক্ষে গতিময় ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী এ দলটির বিপক্ষে সমানতালে লড়লেও কোনো ইনজুরির সমস্যায় পড়েনি। এ ব্যাপারে গোলরক্ষক কোচ জানান, এটা ভালো দিক যে দলে কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। পরের ম্যাচটা আমাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। পরের ম্যাচ থেকে অন্তত এক পয়েন্টও যেন তুলে আনতে পারি সেভাবেই মেয়েদের উদ্বুব্ধ করা হচ্ছে। আগামী দুদিন আমরা শুধু কোরিয়া ম্যাচ নিয়ে কাজ করব। মাঠে এবং মাঠের বাইরে পরিকল্পনা সাজিয়ে তারপর ম্যাচে নামব।
সময়ের আলো/আআ