সমীকরণ পরিষ্কার ছিল। কোপা দেল রের ফাইনালে জায়গা পেতে হলে অন্তত ৫-০ গোল ব্যবধানে জিততেই হবে। ৪-০ ব্যবধানে জিতলে ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে এমন সমীকরণই ছিল বার্সেলোনার। কিন্তু এর কোনোটাই স্পর্শ করতে পারেনি হ্যান্সি ফ্লিকের দল। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ৩-০ গোলে জেতে কাতালানরা। দুই লেগ মিলে অ্যাথলেটিকোর কাছে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হেরে এবারের মতো কোপা দেল রের ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হলো রাফিনিয়াদের। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম লেগে অ্যাথলেটিকোর ঘরের মাঠে ৪-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয় বার্সা।
হারের পর হতাশায় মুহ্যমান রাফিনিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, সত্যি বলতে, অজুহাত খোঁজা উচিত নয় আমাদের। প্রথম লেগে আমরা ভালো করতে পারিনি এবং যে পর্যায়ে খেলা প্রয়োজন ছিল, তা দেখাতে পারিনি। আমরা জানতাম, অজুহাত না খুঁজে মাঠের পারফরম্যান্সে ব্যবধান ঘুচিয়ে দিতে হবে আমাদের। আজকে আমরা সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি।
ডু অর ডাই ম্যাচে অ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে দলকে এক গোল উপহার দেন বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়া। তবে শেষ দিকে গোল না হওয়ার পরাজয়ের তেঁতো স্বাদে মাঠ ছাড়ে দলটি। এ প্রসঙ্গে ম্যাচ শেষে রাফিনিয়া আরও বলেন, এই ধরনের ম্যাচ দল নিয়ে গর্ব করার সুযোগ করে দেয়। এভাবে যদি খেলতে পারি আমরা, মৌসুমের শেষটা আমাদের দুর্দান্ত হবে। আমি নিশ্চিত, আমাদের সমর্থকরাও গর্বিত দলকে এভাবে খেলতে দেখে। এমন একটি দলের সঙ্গে আমরা খেলেছি, যারা নিজেদের মতো ভালো ডিফেন্স করতে পারে। এমন দলের বিপক্ষে আমরা দুর্দান্ত খেলেছি।
সেমিফাইনালে যেতে বার্সাকে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে হতো। সেই গল্পের পটভূমি মঙ্গলবার রাতে অনেকটাই রচনা করে ফেলেছিল দলটি। খেলার ৭২ মিনিটেই মধ্যে অ্যাথলেটিকোর জালে ৩ গোল পুরে। তবে শেষ ১৮/২০ মিনিট গোলের খোঁজে চাতকের মতো ছোটাছুটি করেও গোলের দেখা পায়নি ফ্লিকের শিষ্যরা। বার্সার হারে ১৩ বছর পর কোপার ফাইনালে পা রাখল অ্যাথলেটিকো। ম্যাচ শেষে অ্যাথলেটিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে বলেন, আমরা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ফাইনালের খুব কাছে গিয়েছি, আর এই দুই লেগের খেলায় আমরা বার্সেলোনার চেয়ে ভালো খেলেছি।
ঘরের মাঠে মঙ্গল শুরু থেকে অ্যাথলেটিকোর রক্ষণে আক্রমণ করে বার্সার আক্রমণ ভাগ। ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে ২৯ মিনিটে বার্সাকে এগিয়ে দেন মার্ক বার্নাল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। বিরতির পরও দাপট ধরে রাখে বার্সা। ৭২ মিনিটে বার্নাল নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন। কিন্তু তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচে বাকি সময়ে বার্সাকে আর কোনো গোল পেতে দেয়নি অ্যাথলেটিকো। ফলে জিতেও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো কাতালান ক্লাবটিকে।
ম্যাচ শেষে বার্সার কোচ ফ্লিক জানান, আমরা হতাশ, কিন্তু আজকের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত। অসাধারণ ম্যাচ, আরও গোলের সুযোগও তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি, যা মেনে নিতে হবে।
সময়ের আলো/আআ