সফরে থাকলে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গেরও বিধান রয়েছে। সিয়াম পালন করা কষ্টকর হোক অথবা না হোক। তবে মুসাফিরের জন্য সিয়াম পালন করা কষ্টকর না হলে তার জন্য রোজা পালন করাই উত্তম। আর কষ্টকর হলে তার জন্য রোজা ভঙ্গ করার অবকাশ আছে। রমজানে কেউ দেশের সীমানার মধ্যে বিমানে সফর করলে সাধারণত তিনি দেশের নিয়ম এবং সময় অনুযায়ী ইফতার করে নেন।
তবে রমজানে দেশের সীমানার বাইরে অন্য কোথাও বিমানে সফর করলে ইফতারের সময় নিয়ে বেশ বিপত্তিতে পড়তে হয়। কারণ দেশের সীমানায় নিয়মিত সময়েই সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় হয়। কিন্তু বিমান ভূমি থেকে কয়েক হাজার ফিট ওপরে ওঠার পরে দেশের আকাশে সূর্য অস্ত গেলেও বিমান থেকে স্পষ্টভাবেই সূর্য দেখা যায়। বিশেষ করে বিমান যখন পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে যেতে থাকে। যেমন কেউ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে উঠল। এ ক্ষেত্রে বিমান যেহেতু পশ্চিম দিকে যাচ্ছে তাই দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা সূর্য চোখের সামনে থাকে। অথচ বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। এ ক্ষেত্রে বিমানের যাত্রীরা যদি সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে তা হলে দেখা যাবে কখনো কখনো রোজার সময় প্রলম্বিত হয়ে ২০-২২ ঘণ্টাও হয়ে যায়।
তা হলে এ বিষয়ে ইসলামী সমাধান কী? এমন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে ইসলামী আইন ও ফিকাহ শাস্ত্রবিদদের মতামত হলো- ক. বিমানের যাত্রীরা নিজেরা যখন সূর্যাস্ত হতে দেখবে তখনই ইফতার করবে। উল্লিখিত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে বিদেশের আকাশ থেকে বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী ইফতার করা যাবে না এবং যে এলাকার আকাশের ওপর বিমান আছে সেখানের স্থলভাগের হিসেবেও নয়। খ. যদি রোজা ২০-২২ ঘণ্টারও হয়ে যায় তবু সূর্যাস্ত না দেখে ইফতার করা যাবে না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি এই অবস্থায় রোজা পুরো করতে গেলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে তা হলে তিনি ভেঙে ফেলতে পারবেন এবং পরে এ রোজার কাজা করে নেবেন। উল্লেখ্য, সফর অবস্থায় যদি সুবহে সাদিক শুরু হয় অর্থাৎ রাতের শেষ ভাগে যদি কেউ সফরে থাকে তা হলে শুরু থেকেই তার জন্য রোজা না রাখার সুযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সে এর কাজা করে নেবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২২৫; রদ্দুল মুহতার : ২/৪২০)
সময়ের আলো/জেডআই