বিশ্বজুড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা তার প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, বর্ণবাদ-পরবর্তী ইতিহাস এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থার জন্য সুপরিচিত। আর এই বৈচিত্র্যই দেশটির চলচ্চিত্রে প্রাণ পায়। দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ম মানেই শুধু বিনোদন নয়, বরং ইতিহাস, রাজনীতি, জাতিগত সম্পর্ক, দারিদ্র্য, সহিংসতা, প্রেম ও মানবিকতার এক বাস্তবধর্মী ক্যানভাসও।
দক্ষিণ আফ্রিকার সিনেমার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বর্ণবৈষম্যের ইতিহাস। ১৯৪৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত চলা বর্ণবৈষম্যের ক্ষতচিহ্ন এখনও সমাজে স্পষ্ট। তাই অনেক চলচ্চিত্রে দেখা যায় শোষণ, প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার গল্প। এমনিই এক চলচ্চিত্র TSOTSI। জোহানেসবার্গের বস্তির এক কিশোর গ্যাং সদস্যের জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি দারিদ্র্য, অপরাধ ও মানবিক পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরে। ছবিটি ২০০৬ সালে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।
ঝলমলে কৃত্রিমতার বদলে সমাজের প্রান্তিক মানুষের বাস্তব জীবনসংগ্রামই বেশি উঠে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার চলচ্চিত্রে। এরকম আরেকটি চলচ্চিত্র District 9, যা একটি সায়েন্স ফিকশন হলেও এর ভেতরে রয়েছে অভিবাসন, বর্ণবাদ ও সামাজিক বৈষম্যের রূপক চিত্র। চলচ্চিত্রটিতে এলিয়েনদের মাধ্যমে মানুষের সমাজের বিভাজনকে তুলে ধরা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়।
তবে নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা এখন শুধু বর্ণবৈষম্যেই আটকে নেই। তারা বলছেন প্রেমের গল্প, শহুরে তরুণদের স্বপ্ন, পরিচয়ের সংগ্রাম, মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন সহ বহুমাত্রিক সমাজের গল্প।
/ইউএমএইচ