গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সড়কের সঙ্গে লাগোয়া আবাদি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। খনন করা মাটি পরিবহনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তালুক ফলগাছা গ্রামের মন্ডলপাড়ায় তালুক ফলগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, খনন করা মাটি বিক্রি করা হয়েছে এবং সেগুলো বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে এলাকার পাকা ও কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি মাটি বহনকারী গাড়ির ধুলো বাতাসে উড়ে মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। ফলে ঘরের আসবাবপত্র ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে। খোলা রাখা যাচ্ছে না ভাত-তরকারিসহ খাবারদাবার। অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, কি বলি ভাই, এ সড়কটি পাকা হওয়ার এখনো এক বছরও হয়নি। মাটি বহনকারী গাড়ির বেপরোয়া চলাচলে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তাছাড়া দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
সড়ক সংলগ্ন এক বাড়ির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোজার মাস। সারাদিন কাজ করে শরীর নিয়ে একটু বিশ্রাম নিতে গেলেই গাড়ির বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। মনে হয় যেন মাথার ওপর দিয়েই চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাওছার আহমেদ রোমান বলেন, আমরা তো অন্যায় কাজ করতে পারি না। নিজস্ব জমিতে মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন করছি। সড়ক ঘেঁষে নয়, দূরত্ব বজায় রেখেই খনন করা হচ্ছে, যাতে সড়কের ক্ষতি না হয়। তবে জমির শ্রেণি পরিবর্তনে প্রশাসনের অনুমতি লাগে— এ বিষয়টি আমার জানা নেই।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. আতোয়ার রহমান খন্দকার বলেন, শুধু তালুক ফলগাছায় নয়, আমার জানামতে এ ইউনিয়নের তিনটি স্থানে এভাবে মাটি খনন করা হচ্ছে। আমি সেসব জায়গায় গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়ে এসেছি। এরপর তারা আবার কাজ শুরু করেছে কি না জানি না। তবে বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে মাঠে কাজ করছি। কোথাও অভিযোগ পেলেই ঘটনাস্থলে যাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপনার কাছে ছবি ও তথ্য থাকলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান, আমরা ব্যবস্থা নেব।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি প্রয়োজন। এছাড়া সড়কের পাশে পুকুর খনন করাও ঠিক নয়।
সময়ের আলো/আআ