ইরানের ‘মিসাইল সিটি’ কি এখন দুর্বলতায় পরিণত হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

দশকজুড়ে ইরান মাটির গভীরে অসংখ্য বাংকার বা মিসাইল সিটি তৈরি করেছিল। তাদের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে

2026-03-06T12:23:21+00:00
2026-03-06T12:23:21+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের ‘মিসাইল সিটি’ কি এখন দুর্বলতায় পরিণত হচ্ছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম   (ভিজিট : ১১২)
দশকজুড়ে ইরান মাটির গভীরে অসংখ্য বাংকার বা মিসাইল সিটি তৈরি করেছিল। সংগৃহীত ছবি
দশকজুড়ে ইরান মাটির গভীরে অসংখ্য বাংকার বা মিসাইল সিটি তৈরি করেছিল। তাদের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। 

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ না পেরোতেই তেহরানের এই কৌশল এখন তাদের জন্য বড় এক ‘ভুল’ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান এবং সশস্ত্র ড্রোনগুলো এখন ইরানের এই ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোর ওপর চক্কর দিচ্ছে। যখনই কোনও ক্ষেপণাস্ত্রবাহী লঞ্চার বা উৎক্ষেপণকারী যান আঘাত হানার জন্য সুড়ঙ্গ থেকে বের হচ্ছে, তখনই সেগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। 

এমনকি ভারী বোমাবর্ষণের মাধ্যমে অনেক সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে ইরানের বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার মাটির নিচেই আটকা পড়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ৫০০-র বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। 

তবে এর বড় একটি অংশই মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হার ৮৬ শতাংশ কমে গেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। একইসঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমরা ইরানের অবশিষ্ট ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো খুঁজে খুঁজে ধ্বংস করছি। আমাদের ও আমাদের সহযোগীদের ওপর আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের দ্রুত কমে আসছে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই মিসাইল সিটি একসময় সচল ও খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। কিন্তু এখন এগুলোর বড় দুর্বলতা নির্দিষ্ট এক জায়গায় স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ধ্বংস করা সহজ হয়ে গেছে। 


স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা গেছে, শিরাজ শহরের কাছে কয়েকটি মোবাইল লঞ্চার সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার পরপরই ধ্বংস করা হয়েছে। ২ মার্চের এক ছবিতে দেখা গেছে, ধ্বংস হওয়া একটি লঞ্চার থেকে লালচে ধোঁয়া বের হচ্ছে, যা মূলত ক্ষেপণাস্ত্রের নাইট্রিক অ্যাসিড জ্বালানি লিকেজ হওয়ার লক্ষণ।

ইস্পাহান ও কেরমানশাহর কাছের ঘাঁটিগুলোতেও ভারী বোমাবর্ষণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে বাংকার বাস্টার বোমার আঘাতে তৈরি হওয়া বিশাল গর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। উত্তর ইরানের তাবরিজ শহরের কাছে একটি ঘাঁটির প্রবেশপথ পুরোপুরি ধসে পড়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পেন্টাগন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বছরের পর বছর ধরে ইরানের এই ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোর অবস্থান শনাক্ত করেছে। বর্তমানে দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর ইরানে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।

তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সিএনএ কর্পোরেশনের বিশ্লেষক ডেকার ইভেলেথ সতর্ক করে বলেন, ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের সঠিক পরিসংখ্যান কারও জানা নেই। তারা কতদিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং এটাই ইরানের শক্তির জায়গা। 



/ইউএমএইচ


  বিষয়:   মিসাইল সিটি  ইরান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: