বিগত এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একা লড়ে যাচ্ছে ইরান। যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশটির নারী ফুটবল দল এশিয়ান কাপ খেলতে যায় অস্ট্রেলিয়ায়।
যুদ্ধের খবর শুনে তারা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের সময় চুপ ছিলেন। তবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের নতুন এক প্রতিক্রিয়া দেখাল তারা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে রবিনা স্টেডিয়ামে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই খেলোয়াড়রা ‘মেহর-ই খাভারান’ জাতীয় সংগীত গেয়ে শোনান। সঙ্গে দিলেন সামরিক স্যালুটও। এ সময় দর্শকদের একটি অংশ দুয়ো দেয় এবং কয়েকজন প্রবাসী ইরানি ১৯৭৯ সালের আগের পতাকা প্রদর্শন করেন।
দুই ম্যাচের মধ্যে নিজেদের অবস্থান বদলানোর কারণ পরিষ্কার নয়। তবে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে ইরান স্ট্রাইকার সারা দিদার সংবাদ সম্মেলনে দেশে থাকা পরিবার ও বন্ধুদের জীবনের ঝুঁকির কথা ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে খেলোয়াড় ও স্টাফরা দেশের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এরপরও ইরানিয়ান অস্ট্রেলিয়ানদের সমর্থনে আবেগে আপ্লুত কোচ মারজিয়া জাফারি।
অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াকে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব খুশি যে এখানে ইরানিয়ান অস্ট্রেলিয়ানরা আমাদের সমর্থন দিয়েছে। অবশ্যই আমরা আমাদের পরিবার ও ভালোবাসার মানুষদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। এখানে আমরা এসেছি পেশাদারভাবে ফুটবল খেলতে। সামনের ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
দুই ম্যাচই হেরে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ইরান। রোববার ফিলিপাইনসের বিপক্ষে বড় জয়েই পারে তাদের কোয়ার্টার ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে। ইতোমধ্যে এই গ্রুপ থেকে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া শেষ আটে উঠেছে। গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দলের সঙ্গে সেরা দুটি তৃতীয় দল যাবে পরের ধাপে।
সময়ের আলো/এআর