চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ছোট্ট খেলার মাঠ থেকে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বল পায়ে দাপিয়ে বেড়ানো। তৃণমূল ফুটবলার থেকে জাতীয় দলের গর্বের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে বিশ্বের নামিদামি স্টেডিয়ামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। দীর্ঘ ২০ বছরের ঝলমলে ক্যারিয়ারে অনেক সাফল্যের নায়ক জাহেদ পারভেজ চৌধুরী। ২০১০ সালে এসএ গেমসে পদকজয়ী দলের সদস্য, ইন্দো-বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক, ক্লাব ফুটবলে অনেক শিরোপা জয়ের সাক্ষী একসময়কার মাঠ কাঁপানো এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। দেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের হয়ে হ্যাটট্রিক লিগ শিরোপা জয়ের নায়ক, স্বাধীনতা কাপ, ফেডারেশন কাপ, সুপার কাপ- এমন অনেক পুরস্কারে নিজের নাম যোগ করেছেন জাহেদ।
দুই দশকের দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে এখন পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ জাহেদ পারভেজ। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের সদস্য সচিব। জাহেদ অবশ্য খেলোয়াড়ি জীবনের মধ্যগগনে থাকাকালেই বিএনপির একজন সক্রিয়কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন, ছাত্রাবস্থাতেও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। এমনকি ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে পারিবারিক ব্যবসার কাজে ওই সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আন্দোলনবিমুখ দেশে অবস্থান করেও ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন জাহেদ। আন্দোলনকারীদের আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভিডিও বার্তা পোস্ট করে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।
হাসিনা সরকারের পতনের পর ক্ষমতার চেয়ারে না বসেও বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের ইতিহাসে সেরা গোলরক্ষক আমিনুল হকের নির্দেশে এবং পরিকল্পনায় অনেক কাজ করেন জাহেদ পারভেজ। দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টের নামিদামি সব তারকা খেলোয়াড়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদকধারীদের নিয়ে জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দল গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখেন জাহেদ। এ ব্যাপারে তিনি জানান, ‘মহানগর উত্তর বিএনপি দিয়ে আমরা কিন্তু প্রথম ৫ আগস্ট পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করি। আমিনুল হক ভাই যিনি এখন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন তার নির্দেশনা এবং পরিকল্পনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দল দেশের সব জেলায় আমরা খেলাধুলা কার্যক্রম চালু করি। এর মধ্যে আমরা ৩২টি ইউনিভার্সিটি নিয়ে ক্রিকেট, ১৬টি ইউনিভার্সিটি নিয়ে ফুটসাল, ভলিবল, দাবা, তারপর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বিষয় নিয়ে আমরা ফুটবল ম্যাচ সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকাতে বিভিন্ন পর্যায়ে আয়োজন করেছি এবং বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে কাজ করে গেছি। সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে।’
আরও পড়ুন
বিএনপি সরকার গঠনের আগে জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দল ব্যস্ত কর্মসূচিতে ঠাসা ছিল। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সেই কাজে অনেকটা স্থবিরতা বিরাজ করছে। যদিও এমন অভিযোগ মানতে নারাজ জাহেদ। রমজান মাস তাই মাঠের কার্যক্রমের চেয়ে সাংগঠনিক কাজেই বেশি মনোযোগ ক্রীড়া দলের। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড়, সংগঠক, কোচ বের করে আনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন তারা। এ ব্যাপারে জাহেদ পারভেজ বলেন, ‘এখন রমজান মাস চলছে, এখন আমরা কিছু সাংগঠনিক প্ল্যান করছি। যেহেতু আমরা খেলাটা একদম প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই এবং আমাদের যারা ক্রীড়াবিদ রয়েছেন আমরা ৬৪টা জেলা থেকে প্রতিনিধি নির্বাচন করে প্রত্যেকটা জেলায় কার্যক্রমটা বিস্তার করতে চাই। এ জন্য আমরা রমজানে সাংগঠনিক কাজ করছি এবং সবার সঙ্গে মতবিনিময় করছি। বিএনপি ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে অলরেডি ৯টা পরিকল্পনা দিয়েছে, এগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং কী কী প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে সেগুলো নিয়ে আমরা বিশেষজ্ঞদের কাছে মতামত নিয়েছি। সভা-সেমিনার আয়োজন করেছি, কর্মশালার ব্যবস্থা করেছি।’
তৃণমূল থেকে জাতীয় দলের অংশ হয়েছেন জাহেদ পারভেজ। বিএনপি সরকার এবং ক্রীড়া দলেরও চোখ সেই তৃণমূলে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাক্রমে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তৃণমূল থেকে ফুটবলার তুলে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে তৃণমূলের ১২-১৪ বয়সি প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে আনারও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এমন আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে যা বিএনপির পাশাপাশি ক্রীড়া দলও তাদের উদ্যোগে করার ঘোষণা দিয়েছে। এ ব্যাপারে জাহেদ পারভেজ বলেন, ‘আমিনুল হক ভাই জেলা-উপজেলা থেকে জাতীয় প্রতিনিধি নিয়ে এসে আবার একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাতে ক্রীড়াঙ্গনে যে একটা স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে, সেগুলো থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন আবার যেন আগের জায়গায় আসতে পারে, পুনরায় সচল হতে পারে, ইতিমধ্যে সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আমরা আমিনুল ভাইয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক কাজ করে যাবে। ক্রীড়া দল এ ক্ষেত্রে পিছপা হবে না।’
বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনে কাজ করছে ক্রীড়া দল। এ ছাড়া ৫১ সদস্যবিশিষ্ট প্রত্যেকটা জেলার ক্রীড়াবিদদের নিয়ে জেলা কমিটি, বাংলাদেশের ৪৯৫টি থানা-উপজেলা রয়েছে সেখানেও কাজের ঘোষণা দিয়েছেন জাহেদ পারভেজ। এ ব্যাপারে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ক্রীড়া দল একদম রুট লেভেলে মানে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে যাব। আর যারা থানার দায়িত্ব পাবে তারা দ্রুত ইউনিয়ন কমিটিগুলো করবে, ইউনিয়ন ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটিগুলো করবে। আর এভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটা অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন হিসেবে রূপান্তর হবে আমাদের জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দল।’
এএডি/