কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি বলেছেন, এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ চললে বিশ্বজুড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জ্বালানির দাম সবার জন্যই বেড়ে যাবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি সতর্ক করেছেন যে এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দেবে।
শুক্রবার (৭ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এ (এফটি) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাদ আল-কাবি বলেন, এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ চললে বিশ্বজুড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জ্বালানির দাম সবার জন্যই বেড়ে যাবে।
বেশ কিছু পণ্যের সংকট দেখা দেবে এবং কারখানাগুলোতে এর ধারাবাহিক প্রভাব পড়বে, ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে গত শনিবার থেকে ইরানও ওই দেশগুলোতে এবং উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। এর জেরে গত সোমবার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কাতার। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো। এতে বিশ্বজুড়ে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়ছে এবং উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে।
কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী এফটিকে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চুক্তির বাধ্যবাধকতা এড়াতে যেসব কোম্পানি এখনো 'ফোর্স ম্যাজর' (অনিবার্য কারণ) ঘোষণা করেনি, তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সব রপ্তানিকারককেই এই পথ বেছে নিতে হবে।
যুদ্ধ যদি এখনই থেমে যায়, তবু সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে কাতারের 'কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস' পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ একাই মেটায় কাতার। এশিয়া ও ইউরোপের বাজারের চাহিদা পূরণে এই গ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্রাসেলস ইনস্টিটিউট ফর জিওপলিটিকসের জ্বালানিবিষয়ক ফেলো থাইস ফন ডি গ্রাফ সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে জানান, যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব উৎপাদক এই পথের ওপর নির্ভরশীল, বাধ্য হয়ে তাদের উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। ইরাক ইতিমধ্যে তাদের বড় দুই-তিনটি তেলের ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।
ফন ডি গ্রাফ আরও বলেন, এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, চাইলেই সুইচ টিপে বিদ্যুতের মতো তেলের কূপ বন্ধ বা চালু করা যায় না। এ অঞ্চলের অনেক উৎপাদকের জন্যই এখন বিপদ ঘনিয়ে আসছে। এই যুদ্ধ সহসাই থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং স্থল অভিযানের ক্রমবর্ধমান আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের ওপর 'ধ্বংস ও মৃত্যু' নামিয়ে আনার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা সত্ত্বেও ইরান এই অঞ্চলে তাদের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান এই অঞ্চলে টেকসই শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে নিজেদের জাতির মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না বলে জানান তিনি।
মধ্যস্থতার নতুন উদ্যোগ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে ইঙ্গিত করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যারা ইরানের জনগণকে অবমূল্যায়ন করে এই সংঘাতের উসকানি দিয়েছেন, যেকোনো মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে আগে তাদের সুরাহা করা উচিত।
/ইউএমএইচ