মার্কিন সিনেটে স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটির শুনানি। আলোচনা হচ্ছিল ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলা নিয়ে। ঠিক তখনই দর্শক সারি থেকে সামরিক পোশাকে দাঁড়িয়ে পড়েন সাবেক মেরিন সেনাসদস্য ব্রায়ান ম্যাকগিনিস। দাঁড়িয়েই চ্যালেঞ্জ ছুড়তে থাকেন ট্রাম্প প্রশাসনের রণকৌশলকে। সিনেটের শুনানি কক্ষে ঢুকেই চিৎকার করে বলেন, ইসরায়েলের জন্য লড়তে কেউ চায় না।
বৃহস্পতিবার আলজাজিরার একটি ভিডিও প্রতিবেদনে জানানো হয়, নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে গ্রিন পার্টির হয়ে সিনেট নির্বাচনে লড়েন ব্রায়ান ম্যাকগিনিস। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। এসময় তাকে টেনে-হিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিক্ষোভ করে আহত হন তিনি।
শুনানিটি ছিল ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে একটি অধিবেশন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে জোর করে হলরুম থেকে বের করে নেওয়ার সময়ও তিনি চিৎকার করতে থাকেন, ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধে আমেরিকা তার ছেলেমেয়েদের পাঠাতে চায় না! তিনি দরজার সঙ্গে আঁকড়ে ধরে চিৎকার করেন, ইসরায়েলের জন্য লড়তে কেউ চায় না!
কর্মকর্তা ও ওই সিনেটর প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে ম্যাকগিনিসকে ধাক্কা ও টানাহেঁচড়া করতে থাকেন। মেরিন সেনার এই আকস্মিক প্রতিবাদে পুরো শুনানিতে বিঘ্ন ঘটে।
একপর্যায়ে তাকে কক্ষ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় ক্যাপিটল পুলিশ ও রিপাবলিকান সিনেটর টিমোথি প্যাট্রিক শিহিরের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ব্রায়ানের অভিযোগ, এ ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দরজার ফাঁকে আটকে তার হাত ভেঙে গেছে। রয়টার্সের যাচাই করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, সামরিক পোশাক পরিহিত ব্রায়ানকে কক্ষের দরজা দিয়ে টেনে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন সিনেটর টিমোথি প্যাট্রিক শিহি ও ক্যাপিটল হিলের পুলিশ কর্মকর্তারা। সে সময় একটি খোলা দরজায় ব্রায়ানের হাত আটকে যায়। তবে এ আঘাতের পরও দমে যাননি ব্রায়ান।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ব্রায়ান জানিয়েছেন, নর্থ ক্যারোলিনা থেকে গ্রিন পার্টির প্রার্থী হিসাবে মার্কিন সিনেট নির্বাচনে নিজের প্রচার চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ৪৪ বছর বয়সি ম্যাকগিনিসের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা, গ্রেফতারে বাধা দেওয়া ও অবৈধ বিক্ষোভ চলাকালে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাকগিনিস বলেন, আমি অনেক আগে থেকেই এ নিয়ে লড়ছি। নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে হাত ভাঙার পরও আমার এই যাত্রা থামেনি। এ ঘটনা আমাকে আরও সংকল্পবদ্ধ করেছে। মানুষের ক্ষোভ যেমন সত্য, সংকল্পও তেমনি বাস্তব। মন্টানার প্রতিনিধি টিমোথি প্যাট্রিক শিহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, ওই হাতাহাতি থামাতে তিনি হস্তক্ষেপ করেছিলেন।
ক্যাপিটল পুলিশ সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক কমিটির (আর্মড সার্ভিসেস) শুনানি থেকে এক উন্মত্ত বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি পুলিশকে বাধা দিচ্ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমি সহায়তার সিদ্ধান্ত নিই। এই ভদ্রলোক ক্যাপিটলে এসেছিলেন সংঘাতের উদ্দেশ্য নিয়ে এবং তিনি তা-ই পেয়েছেন। তিনি নতুন কোনো সহিংসতা না ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা সহায়তা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
/ইউএমএইচ