অনুতাপের অনলে জ্বালাও নিজেরে

মুফতি আমিন ইকবাল

ইসলাম

আজ ১৮ রমজান। বিদায়ের পথে পবিত্র মাসের মাগফেরাতের দশক, হাতছানি দিচ্ছে নাজাতের দশক। দেখতে দেখতে নাজাতের দশকও শেষ হবে। বিদায়

2026-03-08T01:18:45+00:00
2026-03-08T01:18:45+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
ইসলাম
মাগফিরাতের দশক
অনুতাপের অনলে জ্বালাও নিজেরে
মুফতি আমিন ইকবাল
প্রকাশ: রোববার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১:১৮ এএম   (ভিজিট : ১৬৩)
সংগৃহীত ছবি
আজ ১৮ রমজান। বিদায়ের পথে পবিত্র মাসের মাগফেরাতের দশক, হাতছানি দিচ্ছে নাজাতের দশক। দেখতে দেখতে নাজাতের দশকও শেষ হবে। বিদায় নেবে রমজান মাসও। মূলত রমজান আসে মানুষের আত্মশুদ্ধি ও পাপমুক্তির জন্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়ামকে ফরজ করা হয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ 

‘তাকওয়া’ মানে আল্লাহভিরু বা খোদাভিরুতা। অভিধানে তাকওয়া হচ্ছে বেঁচে থাকা, মুক্তি পাওয়া, নিরাপদ হওয়া। জীবনের প্রতিমুহূর্তে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকার আপ্রাণ প্রচেষ্টাকে তাকওয়া বলে। শেষ বিচারের দিন আল্লাহর আজাব থেকে মুক্তি পেয়ে নিরাপদে জান্নাতে বসবাস করার জন্য যিনি চেষ্টা করেন তাকে বলে মুত্তাকি। 

সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন বিশ্বাসী বান্দা মুত্তাকির স্তরে পৌঁছে যায়। বান্দা যখন রুহের জগতে প্রভুকে প্রভু বলে স্বীকার করে আবার এ জগতেও প্রভুর প্রভুত্ব মেনে নেয়, তখন আর বান্দার নিজের ইচ্ছামতো চলার কোনো সুযোগ নেই। চলতে হবে প্রভুর ইচ্ছামতো। কিন্তু মানবদেহে যে নফস নামে আরেক প্রভু আছে, আছে শয়তানি শক্তি, সে তো বান্দাকে আল্লাহর ইচ্ছামতো চলতে দিচ্ছে না। এভাবেই বান্দা হেরে যায়, নফস জিতে যায়। তখন আর মানবের রুহের জগতে করা ওয়াদা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। আল্লাহ কত দয়ালু! কত মেহেরবান! প্রথমে মনে করিয়ে দেন, রুহের জগতের ওয়াদার কথা। তারপর সে ওয়াদা কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, সে পথও দেখিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, সিয়াম সাধনা করলে তুমি মুত্তাকি হতে পারবে। আল্লাহর আজাব থেকে বেঁচে যাওয়ার কৌশল খুব সহজেই শিখে যাবে। 

তো বান্দা যখন সিয়াম সাধনা শুরু করে, তখন নফস বলে, খুব পিপাসা পেয়েছে। একটু পানি খেয়ে নাও। বান্দা বলে, সাবধান! সমুদ্রের গভীর অন্ধকারের নিচেও আল্লাহপাক স্পষ্ট দেখতে পান। তাই লুকিয়ে, আড়ালে-আবডালেও পানি খাওয়া সম্ভব নয়। এভাবেই শুরু হয়ে যায় তাকওয়ার প্রশিক্ষণ। নফস বলে, হারাম উপার্জন করো। বান্দা বলে, না। আল্লাহ দেখছেন। এমনিভাবে, এক মাসের বিশেষ কোর্স যখন বান্দা সফলভাবে শেষ করেন, তখন তার চেতনায় গেঁথে যায়, আমি যা-ই করছি, আল্লাহপাক সব দেখছেন। এক মাসের ট্রেনিং শেষে বান্দা এমন রুহানি শক্তি অর্জন করেন যে, তখন আর নফস তাকে পরাজিত করতে পারে না। নফসই তার কাছে পরাজিত হয়। এজন্যই দৃঢ়তার সঙ্গে আল্লাহপাক বলেছেন, তোমাদের এবং পূর্ববর্তীদের ওপর সিয়াম ফরজ করে দিয়েছি, এতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পারবে। 

মুত্তাকিরাই দুনিয়া-আখেরাতের সাধক মানুষ। তাদের জন্য বিশেষ বিশেষ সুবিধা আল্লাহপাক রেখেছেন। এক. যারা মুত্তাকি হতে চায়, আল্লাহ তাদের মুত্তাকি হওয়ার কঠিন সাধনাকে সহজ করে দেন। তাদের জন্য এমন জায়গা থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন, যা তাদের কল্পনা করাও সম্ভব নয় (সুরা তালাক : ২-৩)। দুই. হে বিশ্বাসীরা! যদি তোমরা মুত্তাকি হও, তা হলে তোমাদের প্রজ্ঞা দান করা হবে। তোমরা বুঝতে পারবে দুনিয়া-আখেরাতের জন্য কোনটি আসলেই ভালো আর কোনটি ভালো নয়। তোমাদের গুনাহগুলো মুছে দেব। ক্ষমার চাদরে তোমাদের জড়িয়ে নেব (সুরা আনফাল : ২৯)। তিন. যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং মুত্তাকি হও, তা হলে দুনিয়া-আখেরাতে কেউ তোমাদের কোনো ধরনের ক্ষতি করতে পারবে না (সুরা আলে ইমরান : ১২০)। রমজানের এই সময়গুলো হলো অনুতাপের, অনুতপ্তের অনলে নিজেকে জ্বালানোর সময়। হে প্রভু! মাগফেরাতের এই দশকে ক্ষমার চাদরে আবৃত করো আমাদের।


  বিষয়:   মাগফিরাতের দশক 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: