কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে দাবি করা দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এরশাদ নামে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার (৮ মার্চ) এ ঘটনায় করিমগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা হাজি মো. রইছ উদ্দিন। সুতারপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি। অভিযুক্ত এরশাদ করিমগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলে জানা গেছে।
হামলায় হাজি মো. রইছ উদ্দিনের স্ত্রী গুরুতর আহত হয়ে শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, যুবদল নেতা এরশাদ প্রায় ছয় মাস আগে আওয়ামী লীগ নেতা হাজি মো. রইছ উদ্দিনকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে চার লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি আরও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
দাবি করা টাকা না পেয়ে শুক্রবার সকালে এরশাদের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রইছ উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা তিনটি বসতঘরের দরজা, জানালা ও বেড়ায় ব্যাপক ভাঙচুর করে। পাশাপাশি টেলিভিশন, ফ্রিজ, সুটকেস ও আলমিরাসহ ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে এবং নগদ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকারসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ সময় রইছ উদ্দিনের স্ত্রী আলেকজান আক্তার বাধা দিতে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে বলেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর এরশাদ ও তার সহযোগীরা এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠে। আত্মগোপনে থাকা বিভিন্ন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে চাঁদা আদায় করে। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের করেছে।
ভুক্তভোগী হাজি মো. রইছ উদ্দিন বলেন, এরশাদ এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা এরশাদ বলেন, মারামারি বা কাটাকাটির এ ঘটনায় আমি কিছুই জানি না।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির জানান, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আআ