মাগফিরাতের সময় বয়ে যায়

নাজমিন আক্তার ইতি

ইসলাম

বছরের অন্য যেকোনো মাসের চাইতে রমজান মাসের গুরুত্ব নিঃসন্দেহে সর্বাপেক্ষা বেশি। এ সময়ে মহান আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য জাহান্নামি বান্দাকে জাহান্নাম

2026-03-09T15:24:20+00:00
2026-03-09T15:24:20+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
ইসলাম
মাগফিরাতের সময় বয়ে যায়
নাজমিন আক্তার ইতি
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম   (ভিজিট : ১০১)
প্রতীকী ছবি
বছরের অন্য যেকোনো মাসের চাইতে রমজান মাসের গুরুত্ব নিঃসন্দেহে সর্বাপেক্ষা বেশি। এ সময়ে মহান আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য জাহান্নামি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন। রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্ত মানবজাতির জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন পবিত্র রমজান মাস শুরু হয় তখন আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়’ (বুখারি : ১৭৭৮)। সুতরাং রমজান মাস হলো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে বিশেষ অফারের মতো। যার বিনিময় সত্তর থেকে সাতশগুণ পর্যন্ত। আল্লাহ তায়ালা চাইলে আরও বেশি দিতে পারেন। এ জন্য আমাদের উচিত রমজান মাসের একটু সময়ও অবহেলায় নষ্ট না করে প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক থাকা। নবীজি (সা.) রমজান মাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘হে লোকজন, তোমাদের কাছে এক মহান ও বরকতময় মাস এসেছে। এটি এমন এক মাস যার শুরুতে রহমত, মাঝে মাগফিরাত এবং শেষে রয়েছে জাহান্নাম থেকে নাজাত ও মুক্তি।’ (বায়হাকি সংকলিত শুয়াবুল ঈমান)

বর্তমানে চলছে রমজানের দ্বিতীয় দশক অর্থাৎ মাগফিরাতের সময়। মাগফিরাত অর্থ ক্ষমা। রমজানের দ্বিতীয় দশক মহান আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে ক্ষমা লাভের এক বিশেষ সুযোগ আমাদের জন্য। আমরা কেউই যেহেতু পাপের ঊর্ধ্বে নই, সেহেতু এই সময়টাতে আমরা আমাদের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, জানা-অজানা, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত পাপ ও গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হৃদয়ে, বিশ্বাসের সঙ্গে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে মাগফিরাত কামনা করতে পারি। এ সময়ে আমরা ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয়ে আমল করার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। যেমন কুরআন তেলাওয়াত, জিকির ও ইস্তিগফার, শেষ রাতের তাহাজ্জুদ, সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা ইত্যাদি। মহান রাব্বুল আলামিন কুরআন নাজিল করেছেন পবিত্র রমজান মাসে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘রমজান মাস; এতে মানুষের দিশারি এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)।  কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রতিটি হরফ পাঠের বিনিময়ে দশটি করে নেকি লাভের কথা হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে। এ জন্য মাগফিরাতের এ সময়ে আমরা সহিহ শুদ্ধভাবে কুরআনুল কারিম তেলাওয়াতের পাশাপাশি অর্থ বুঝে এবং নিজ জীবনে ধারণ করার মাধ্যমে ক্ষমা লাভ করতে পারি।
আরও পড়ুন

মহান রাব্বুল আলামিনের ক্ষমা ও নৈকট্য লাভে দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফারের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআন ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো। আর সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৪১-৪২)। এ জন্য আমাদের উচিত সবসময়ই আল্লাহকে স্মরণ করা। বেশি বেশি ইস্তেগফার ও দোয়া করা। ছোট্ট একটি ইস্তিগফার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’, যেটি আমরা চাইলে বেশিরভাগ সময়ই বলতে পারি। উচ্চারণে সহজ কিন্তু গুরুত্ব অনেক বেশি। নফল ইবাদতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো তাহাজ্জুদ সালাত। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো। তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। আশা করা যায় তোমার রব তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ৭৯)। রমজান মাসে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় তুলনামূলক সহজ। যেহেতু সেহরির জন্য ঘুম থেকে উঠতেই হয়, তাই আমরা চাইলে কিছু সময় আগে উঠে সহজেই তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতে পারি। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।

সহমর্মিতা ও দানশীলতার মাস হলো রমজান। রমজান মাস এলে রাসুল (সা.)-এর দানের পরিমাণ আরও বেড়ে যেত। সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা মহান আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা লাভের বিশেষ উসিলা হতে পারে। এ সময়ে বিভিন্ন উপায়ে দান-সদকা করা যেতে পারে। যার মধ্যে একটি হলো রোজাদার ব্যক্তিকে সেহরি কিংবা ইফতার করানো। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সে তার (রোজাদারের) অনুরূপ প্রতিদান লাভ করবে; তবে রোজাদারের প্রতিদান থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না’ (তিরমিজি : ৮০৭)। সর্বোপরি বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ক্ষমা, সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের এ সুবর্ণ সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়। 

মহান আল্লাহ তায়ালা হলেন গাফুর ও গাফফার। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তাই বিশ্বাসের সঙ্গে আমরা তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আমার অবাধ্য বান্দারা, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয়ই তিনি সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৫৩)। আল্লাহ সবাইকে তওফিক দান করুন।

এএডি/


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: