মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আলমগীর হাওলাদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সঙ্গে একই গ্রামের হাসান মুন্সির বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে গত বছরের মার্চ মাসে আক্তার হাওলাদারের লোকজন মাদারীপুর সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সিকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এরপর থেকে হাসান মুন্সি ও আখতার হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে। এরই জের ধরে মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের চাচাতো ভাই ও তার সমর্থক আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়াও তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়।
খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ ও সেনা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে একাধিক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে।
নাম না প্রকাশে স্থানীয়রা জানান, এর আগে হাসান মুন্সি ও আক্তার হাওলাদার গ্রুপের সংঘর্ষে হাসান মুন্সির ভাই শাকিল মুন্সিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বোমাবাজি, সংর্ঘষসহ প্রায় সময় উত্তেজনা লেগেই থাকে। তাদের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে আমরা সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের জড়ায় দুইপক্ষ। এর আগেও বেশ কয়েকবার হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আলমগীর হাওলাদারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাসুদ বেপারী নামে একজনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সময়ের আলো/কেএইচও