ইরানের ‘মোজাইক ডিফেন্সের’ নেপথ্যে কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরান দীর্ঘ যুদ্ধে জয়ী হতে বেশ কিছু গোপন কৌশল অবলম্বন করেছে। মোজাইক ডিফেন্স এর মধ্যে অন্যতম। মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে মোজাইক

2026-03-10T16:12:19+00:00
2026-03-10T16:12:19+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের ‘মোজাইক ডিফেন্সের’ নেপথ্যে কী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৪:১২ পিএম 
ইরানের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ। সংগৃহীত ছবি
ইরান দীর্ঘ যুদ্ধে জয়ী হতে বেশ কিছু গোপন কৌশল অবলম্বন করেছে। মোজাইক ডিফেন্স এর মধ্যে অন্যতম। মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে মোজাইক ডিফেন্স তেহরানকে আশা দেখাচ্ছে।  

‘মোজাইক ডিফেন্স’ মূলত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সামরিক ধারণা। বিশেষ করে সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী জাফরি এই ধারণাকে জোরালোভাবে এগিয়ে নেন। এই কৌশলে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে একক কমান্ডের অধীনে না রেখে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আংশিক স্বাধীন স্তরে ভাগ করা হয়। ফলে কোনো বড় হামলায় একটি কমান্ড ধ্বংস হলেও পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে না। 

এই ব্যবস্থায় আইআরজিসি, বাসিজ, নিয়মিত সেনাবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী, নৌবাহিনী এবং স্থানীয় কমান্ড—সবাই একটি ছড়ানো নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করে। যদি কোনো অংশ ধ্বংস হয়, অন্য অংশগুলো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে। যদি শীর্ষ নেতা নিহত হন, তবুও কমান্ড কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়ে না। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও স্থানীয় ইউনিটগুলো স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নিতে পারে।

এই নীতির দুটি প্রধান লক্ষ্য আছে—ইরানের কমান্ড ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা কঠিন করে তোলা এবং যুদ্ধক্ষেত্রকে এমনভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যাতে দ্রুত ফলাফল নির্ধারণ করা কঠিন হয়। 


ইরানের এই কৌশল গ্রহণের কারণ ইরানের এই কৌশল গ্রহণের কারণ 

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানে আগ্রাসন এবং ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ইরানের কৌশলগত চিন্তায় বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সাদ্দাম হোসেনের শাসন খুব দ্রুত ভেঙে পড়া ইরানের জন্য বড় শিক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। 

তারা দেখেছিল, একটি অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্র কাঠামো কীভাবে মার্কিন সামরিক শক্তির সামনে দ্রুত ধসে পড়ে। ফলে ইরান বিপরীত পথে হাঁটে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর বদলে তারা ক্ষমতা ছড়িয়ে দেয়। 


যুদ্ধের সময় ‘মোজাইক ডিফেন্সের’ কাজের ধরন

এই কৌশল অনুযায়ী বিভিন্ন বাহিনীর আলাদা ভূমিকা রয়েছে। ইরানের নিয়মিন সেনাবাহিনী ‘আরতেশ’ প্রথম আঘাত সামলানোর দায়িত্ব পায়। তাদের ট্যাংক, যান্ত্রিক ইউনিট ও পদাতিক বাহিনী শত্রুর অগ্রগতি ধীর করার চেষ্টা করবে। 

বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ছদ্মবেশ, বিভ্রান্তি ও বিচ্ছিন্ন অবস্থান ব্যবহার করে শত্রুর আকাশ শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করবে। এরপর আইআরজিসি ও বাসিজ বাহিনী যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে পরিণত করবে—হামলা, ওঁত পেতে আক্রমণ, সরবরাহ লাইন বিঘ্নিত করা এবং স্থানীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে।

বাসিজ বাহিনী এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইরান বিপ্লবের নেতা রুহুল্লা খোমেনি। পরে এটি আইআরজিসির কাঠামোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়। 

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের পর বাসিজ ইউনিটগুলোকে ইরানের ৩১টি প্রদেশভিত্তিক কমান্ড ব্যবস্থার অধীনে আনা হয়, যাতে স্থানীয় কমান্ডাররা পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ইরান  মোজাইক ডিফেন্স 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: