অনেক মার্কিন সেনা ইরানে যুদ্ধে যেতে চান না বলে গোপন তথ্য প্রকাশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সেনা সদস্য, যারা সংঘাতে যেতে চান না, তারা অনবরত নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়ে যাচ্ছেন।
‘সেন্টার অন কনশিয়েনশস অ্যান্ড ওয়ার’ প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ইরানে যুদ্ধ করা নিয়ে সেনাদের ভেতর থেকে তীব্র আপত্তি উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ফোন বেজেই চলেছে। সরকারের তরফে জনগণকে যা বলা হয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি সেনা ইউনিটকে মোতায়েনের জন্য সক্রিয় করা হয়েছে।’
গত সপ্তাহে মিডলইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। আরও বৃহত্তর সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সম্প্রতি তাদের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কিছু সেনার জন্য নির্ধারিত একটি বড় প্রশিক্ষণ মহড়া বাতিল করেছে। এয়ারবোর্ন সেনারা মূলত স্থলযুদ্ধে বিশেষজ্ঞ। তারা আকাশপথে এসে দ্রুত শত্রু সীমায় প্রবেশ করতে সক্ষম।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট আবারও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ (ড্রাফট) চালু করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেননি।
শেষবার, ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র পুরুষদের বাধ্যতামূলকভাবে যুদ্ধে পাঠাতে নিয়োগ দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহ্যগতভাবে বিদেশে যুদ্ধে যেতে আপত্তি জানানো অনেক নাগরিক রয়েছেন। এঁদের বলা হয়ে থাকে ‘কনশিয়েনশস অবজেক্টরস’।
ভিডিও থেকে নেওয়া এই স্থিরচিত্রে দেখা যাচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে ‘শাজারে তাইয়েবেহ’ বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে।
এক্সে আরেকটি পোস্টে বলা হয়, ‘গতকাল আমাদের কাছে একজন সেনাসদস্যের ফোন এসেছে, যিনি সেনাবাহিনীতে মোতায়েন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি এখন ‘কনশিয়েনশস অবজেক্টরস’ হিসেবে আবেদন করতে চাইছেন।
শুধু তা–ই নয়, তিনি তার ইউনিটের মধ্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা থাকার কথাও বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তিনি সবাইকে আমাদের ফোন নম্বর দেবেন।’
পোস্টে আরও বলা হয়, বিশেষত, তারা (মার্কিন সেনারা) আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি যুদ্ধজাহাজের ওপর হামলার এবং পাশাপাশি মেয়েদের একটি স্কুলে মার্কিন হামলার ঘটনায় চরম আপত্তি প্রকাশ করেছেন।
ইরানের ওই স্কুলটিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হয়েছেন, নিহতদের বেশির ভাগই মেয়েশিশু। তারা ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল।
মিডলইস্ট আইয়ের খবর অনুযায়ী, ইরানের মিনাব শহরের ওই স্কুলটিতে দুবার হামলা করা হয়। প্রথমবার হামলার পর আতঙ্কে এক জায়গায় আশ্রয় নেওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের উদ্ধারকারীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়।
সময়ের আলো/এআর