ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। তবে আহতদের বেশিরভাগের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া “অপারেশন এপিক ফিউরি” অভিযানের পর থেকে টানা ১০ দিনের হামলায় এসব সেনা আহত হয়েছেন।
তিনি জানান, আহতদের মধ্যে ১০৮ জন ইতোমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন। তবে ৮ জন সেনা গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স দুইজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, যুদ্ধের প্রথম ১০ দিনে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। পরে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, আহতের সংখ্যা প্রায় ১৪০ জন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া সোমবার কুয়েতে অবস্থানরত আরেকজন মার্কিন সেনা স্বাস্থ্যজনিত কারণে মারা গেছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বোমা হামলার জবাবে ইরান মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে। এসব হামলার ঘটনায় ইরানে ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও ইরানে সরাসরি মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, যুদ্ধ অনেকটাই সফল হয়েছে এবং এটি দ্রুত শেষ হতে পারে। তবে তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান এখনও চলমান এবং নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের মিসাইল ও মিসাইল তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা, তাদের নৌবাহিনী দুর্বল করে দেওয়া এবং ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্তিও কমিয়ে দেওয়া এই অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
তবে ইরান সবসময় দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। অন্যদিকে ইসরায়েলের কাছে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কি না এবং কখন অভিযান শেষ হবে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই নেবেন।
/ইউএমএইচ