রমজান উপলক্ষে সারা দেশের মতো চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলাতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিছু প্রতিষ্ঠানে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন উপজেলার শোল্লা স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ থাকলেও ভবনের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিত কোচিং পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষক জড়িত বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
গত রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি কক্ষে শিক্ষার্থীরা বসে পাঠ নিচ্ছে। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, রমজানের ছুটির সুযোগ নিয়ে কিছু বিদ্যালয় কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা বলে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে অংশ নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. আরিফুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য স্বেচ্ছায় কিছু সময় পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কোচিং এর জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান এবং কোচিং ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলন ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, সরকারি ছুটির সময় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং বা বিশেষ ক্লাস পরিচালনার অনুমতি নেই। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আআ