পরকীয়ায় জড়িয়ে হকি দম্পতির সংসারে ভাঙন

মামুন হোসেন

খেলা

সোহানুর রহমান সবুজ- বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের উজ্জ¦ল নক্ষত্র, আগামীর তারকা, সময়ের সেরাদের একজন। ডিফেন্ডার হয়েও ফরোয়ার্ডদের চেয়ে ম্যাচ-টুর্নামেন্টে যার

2026-03-12T06:18:36+00:00
2026-03-12T06:18:36+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
খেলা
পরকীয়ায় জড়িয়ে হকি দম্পতির সংসারে ভাঙন
মামুন হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৮ এএম 
সোহানুর রহমান সবুজ ও তাসনিম আক্তার মিম। সংগৃহীত ছবি
সোহানুর রহমান সবুজ- বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের উজ্জ¦ল নক্ষত্র, আগামীর তারকা, সময়ের সেরাদের একজন। ডিফেন্ডার হয়েও ফরোয়ার্ডদের চেয়ে ম্যাচ-টুর্নামেন্টে যার গোলসংখ্যা বরাবরই অধিক। পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট হিসেবে সবুজের সুনাম সর্বজনবিদিত। তাসনিম আক্তার মিমও অপরিচিত নন। জাতীয় নারী হকি দলের সাবেক সদস্য (২০২৩ সালের পর আর খেলেননি)। 

২০১৯ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত যুব অনূর্ধ্ব-২১ নারী এএইচএফ কাপের গর্বিত সদস্য মিম। এটিই বাংলাদেশের নারী দলের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। ওই সফরে মোকসেদা আক্তার মুন্নি নামেও একজন সদস্য ছিলেন। সবুজ-মিম-মুন্নি জাতীয় দলের এ তিন হকি খেলোয়াড়ের ঘটনা হকি অঙ্গন ছাপিয়ে এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

সবুজ-মিম হকির তারকা দম্পতি। ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি দুই পরিবারের উপস্থিতিতে সাভারের বিকেএসপিতে বেশ ঘটা করে জমকালো অনুষ্ঠানে চার হাত এক হয় তাদের। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ২০২৫ সালে এক ছাদের নিচে বাস শুরু হলেও দুজনের সম্পর্কের বয়স বেশ পুরোনো। ২০১৯ সালে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান ১৯ বছরের সবুজ এবং ১৫ বছরের মিম। 

সবুজের প্রেমে এতই মত্ত ছিলেন মিম যে নিজের কিশোরী বয়সের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, লেখাপড়াকে পেছনে ফেলে একসময় হকি অঙ্গন থেকেও সরে দাঁড়ান। সময়টা ২০২১, ওই সময় বিকেএসপিতে নারী দলের ক্যাম্প চলছিল। ওই ক্যাম্পে ছিলেন মিম। একদিন সবুজের হাত ধরে ক্যাম্প থেকে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন ঘুরতে। সেখানে পরে দুজনে গোপনে বিয়ে সারেন।

গোপন বিয়ের খবর সবার থেকে লুকিয়ে রাখলেও দুই পরিবার ঠিকই টের পেয়ে যায়। এরপর ২০২৩ সালে সবুজ-মিমের আকদ সম্পন্ন হয়। মিমের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকাকালেই হকি দলের আরেক সদস্য মোকসেদা মুন্নির প্রেমে হাবুডুবু খেতে থাকেন সবুজ। স্ত্রী থাকা অবস্থাতে গোপনে পরকীয়া চালিয়ে যান। তবে সেই সম্পর্ক স্ত্রীর কাছে প্রকাশ পেতে দীর্ঘ তিন বছর লাগে। ২০২৫ সালে মিম জানতে পারেন তার স্বামী পরকীয়ায় জড়িয়েছেন এবং সেটা তারই দলের সদস্য মুন্নির সঙ্গে। ভালোবেসে সবুজকে বিয়ে করেন মিম, দীর্ঘ ৬ বছরের জানাশোনা শেষে সম্পর্ক পায় চূড়ান্ত পরিণতি। সবুজ-মিম যেমন শুরুতে বন্ধু পরে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে জড়ান, তেমনি মিম এবং মুন্নির সম্পর্কটাও বেশ পুরোনো।

দুজনই ছোটবেলার বান্ধবী, একই এলাকা ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার সালন্দারে বাস এবং দুজনই এক স্কুলের সহপাঠীও। এমন একজন পরিচিত বন্ধু-সতীর্থ জেনেশুনে কীভাবে তার স্বামীর জীবনে জড়ালো এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মিম!

সবুজ-মুন্নির পরকীয়া টের পাওয়ার পর থেকেই ভালো নেই মিম। স্বামীর সংসার ছেড়ে এখন ঠাকুরগাঁওয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে তিনি স্বেচ্ছায় সংসার ত্যাগ করেননি। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে, যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে তবেই সেখানে গেছেন। 

এ ব্যাপারে সময়ের আলোকে মিম জানান, ‘আমার এবং সবুজের বিয়েটা বেশ ঘটা করেই হয়। গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে নিউজ ছাপায়। প্রথম দুই-তিন মাস সংসার জীবন বেশ ভালোই কাটছিল। এরপরই আমার স্বামীর বদলে যাওয়া রূপ দেখতে পাই। প্রায়শই তাকে ফোনে ব্যস্ত থাকতে দেখি। একদিন গোপনে তার ফোন চেক করে দেখি সে আমারই সতীর্থ, ছোটবেলার বান্ধবী মুন্নির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছে। ওদের দুজনের বেশ কিছু অন্তরঙ্গ ছবি, ভিডিও আমার হাতে আসে। এই ব্যাপারে আমি সরাসরি সবুজকে প্রশ্ন করলেও প্রথম প্রথম সে এড়িয়ে যেত। তবে ঘটনা যখন আরও গভীরে প্রবেশ করে, তখন আমার ওপর অত্যাচার-নির্যাতন নেমে আসে। বাড়ি ছাড়তে শেষে বাধ্য হই।’

শ্বশুর-শাশুড়ির উপস্থিতিতে কীভাবে সবুজ নির্যাতন করতেন- এমন প্রশ্নে মিম জানান, ‘আমার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কখনোই আমাকে মন থেকে মেনে নেয়নি। তারা বিয়ের পর আমার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে, যৌতুক না দেওয়াতে আমার ওপর নির্যাতন চালায়। এতে আমার পাঁচ সপ্তাহ বয়সি গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়। আমি অত্যাচার সহ্য করেও সবুজের সংসারে পড়েছিলাম। কিন্তু গত বছরের নভেম্বরে অনেকটা জোর করে আমাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

এরপর পাঁচ মাস কেটে গেলেও আমার কোনো খোঁজ নেওয়া কিংবা ভরণপোষণ কোনোটাই দিচ্ছে না। এমনকি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা আমার ফোন ধরে না। আমাকে নেওয়ার ব্যবস্থাও করে না। আর আমাকে কেনই বা নেবে সবুজ। কারণ ও এখন মুন্নির সঙ্গে অবৈধভাবে সংসার পেতেছে। তাকে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় বাসা ভাড়া করেও থাকছে আমার কাছে এমন খবরও আছে।’

সবুজ তো একজন জাতীয় হকি খেলোয়াড়। সে কীভাবে বাসা ভাড়া নিয়ে গোপনে সংসার চালাচ্ছে। তাকে অর্থ সহায়তা কে করছে- এমন প্রশ্নে মিম বলেন, ‘সবুজ জাতীয় দলের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একজন বেতনভুক্ত হকি খেলোয়াড় (এলএসি র‌্যাঙ্কধারী)। বিয়ের পর আমার জন্য সংস্থা থেকে যে ভাতা, বাসা ভাড়ার টাকা, অন্যান্য সুবিধা পেত সেসবই এখন মুন্নির পেছনে খরচ করছে। 

এটা জানার পর আমি তার সংস্থা বিমানবাহিনীতে লিখিত অভিযোগ করেছি। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। আমি জাতীয় দলের কোচ, ম্যানেজার এবং তার বন্ধু-সতীর্থদের কাছেও এই বিষয়ে বলেছি। তারা বোঝালেও সবুজ এখনও শুনছে না। উল্টো সে আমার পরিবারকে ফোনে হুমকি দিচ্ছে। আমাকে যদি সবুজের সংসারে পাঠানো হয় তবে আমাকে সে মেরে ফেলবে। সবুজের সব হুমকি-ধমকি আমার ফোনে রেকর্ড করা আছে।’

২৫ মার্চ ওমানে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের খেলা। বড় এই আসর সামনে রেখে ঢাকার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে চলছে ক্যাম্প এবং অনুশীলন। ওই ক্যাম্পে আছেন সবুজও। দলের সঙ্গে ওমান যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে মিমের আশঙ্কা সবুজ আর ফিরবে না। এমন আশঙ্কা কেন করছেন- এমন প্রশ্নে মিম জানান, ‘সবুজ এর আগেও জার্মানিতে পালিয়ে যেতে চেয়েছে। তবে একা নয় সঙ্গে মুন্নিও। সবুজ জার্মানির লিগে খেলে। ওর সেখানে যাওয়া-আসা সমস্যা নয়। তবে মুন্নিকে নেওয়ার জন্য ও পাসপোর্ট জমা দিয়েছিল। আমি জানতে পেরে সেসব বন্ধ করেছি। তবে এবার ওমান গেলে সেখান থেকে সবুজ আর ফিরবে না। চলে যাবে ইউরোপের অন্য কোনো দেশে। পরে মুন্নিকেও নিয়ে যাবে। আমার জীবন নষ্ট করে তার এভাবে চলে যাওয়া আমি অন্তত মেনে নেব না। আমি এর বিচার চাই।’

বিমানবাহিনীর পাশাপাশি জাতীয় দলের কোচ রাজীবের কাছেও বিচার দিয়েছেন মিম। তবে এই বিষয়ে এখনও সুরাহা হয়নি। সবুজ অবশ্য এসব ঘটনাকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। সময়ের আলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় সবুজের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘কারোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলেই সে আমার আপন হয়ে যাবে সেটা নয়। মুন্নির সঙ্গে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এর বাইরে কিছুই নয়। আমি ওকে নিয়ে আলাদা থাকছি না। এই অভিযোগ মিথ্যা। মিমের সঙ্গে আমার যে দূরত্ব চলছে সেটা শিগগিরই কেটে যাবে। আমি ওমান থেকে খেলে এসে এ ব্যাপারে ওর সঙ্গে বসব।’

সময়ের আলো/আআ




Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: