মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতের একটি সূত্র জানিয়েছে।
ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে আসে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি বলে রয়টার্সের কাছে দাবি করেছে একটি ইরানি সূত্র।
বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ভারতীয় সূত্রটি তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
এদিকে বুধবার (১১ মার্চ) ভারতের কান্ডলা বন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি থাই জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটলে নয়াদিল্লি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান সংকটে বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর আগেও এ ধরনের হামলায় ভারতীয় নাগরিকসহ অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে এবং সাম্প্রতিক হামলাগুলোর তীব্রতা ও প্রাণঘাতিতা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ১৬টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তেহরান আগেই সতর্ক করেছে যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই আলোচনায় নৌ চলাচলের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত এখন বিকল্প হিসেবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে।
সময়ের আলো/আরবিএন