বিশ্বরাজনীতির উত্তেজনা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলেছে সিনেমার সবচেয়ে বড় আয়োজনেও। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৯৮তম অস্কার পুরস্কার বিতরণী ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এবারের অস্কার অনুষ্ঠান হবে ১৫ মার্চ হলিউডের ডলবি থিয়েটারে। তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই আগে থেকেই সতর্ক করেছিল, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ক্যালিফোর্নিয়ায় ড্রোন হামলার চেষ্টা করতে পারে।
একটি নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়, সমুদ্রের কোনো জাহাজ থেকে ড্রোন উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা সময় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবু সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে অস্কার অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করেছে আয়োজকরা। অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে প্রায় এক মাইল এলাকা নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
সেখানে ইউনিফর্মধারী পুলিশ, বিশেষ প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা সদস্য, বোমা শনাক্তকারী কুকুর এবং বিশেষ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এ ছাড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রায় এক হাজার বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীও নিয়োজিত থাকবে। ড্রোন নজরদারি এবং বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমেও অনুষ্ঠানস্থল পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানা গেছে।
আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকা, অতিথি এবং দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন বলে জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানপন্থি হামলার আশঙ্কা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো তাৎক্ষণিক বা নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য নেই। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দেয় যে আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধের প্রভাব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক উত্তেজনার প্রভাব শিল্প, সংস্কৃতি ও বিনোদনের জগতেও এসে পৌঁছায়।
অস্কার পুরস্কারকে দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র শিল্পের সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এবারের আয়োজন ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা সেই উৎসবের আবহের মধ্যেও যুদ্ধের ছায়া স্পষ্ট করে তুলেছে।
তবে আয়োজকদের আশা, সব সতর্কতা ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হবে এবং বিশ্বজুড়ে দর্শকরা আবারও সিনেমার সবচেয়ে বড় রাত উদযাপন করতে পারবেন।
এফআর