মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের মধ্যে সাম্প্রতিক মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। মূলত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলায় সম্ভাব্য ক্ষমা প্রদানের প্রসঙ্গ ঘিরেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে হারজগকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে তাকে ‘দুর্বল ও করুণ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুকে আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত করতে দ্রুত ক্ষমা দেওয়া উচিত, যাতে তিনি পুরোপুরি যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মনোযোগ দিতে পারেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হারজগ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব কোনওভাবেই বাইরের চাপের মুখে নত হবে না। তার ভাষায়, রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীকগুলোর ওপর প্রকাশ্যে মন্তব্য করা একটি স্পর্শকাতর বিষয় এবং তা হালকাভাবে নেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেদুইন অধ্যুষিত শহর বেইত জারজির পরিদর্শনের সময় হারজগ বলেন, তিনি ব্যক্তিগত সম্মানের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের মর্যাদার প্রশ্নে কথা বলছেন। তিনি জানান, বহু দশক ধরে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক বা আইনি বিষয়ে মতপার্থক্য হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আক্রমণ ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে।
হারজগ আরও বলেন, যদি নেতানিয়াহুর ক্ষমা চাওয়ার আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে আসে, তবে তিনি সেটি স্বাধীনভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করবেন। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা বাইরের প্রভাব ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে, যা দেশটির রাজনীতিতে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি হস্তক্ষেপমূলক মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বর্তমানে ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করলেও, সাম্প্রতিক এই মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্য দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তির ইঙ্গিত দিতে পারে।
এএডি/