সমালোচনার ঝড় পেরিয়ে অবশেষে মাঠেই জবাব দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সাম্প্রতিক তার নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স নিয়ে নানা আলোচনা চললেও পাকিস্তানের বিপক্ষে শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বল হাতে জ্বলে উঠলেন টাইগার অধিনায়ক। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি একটি নাটকীয় রান আউট করে ম্যাচে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করেন তিনি। তার নেতৃত্বেই শুরুতে চাপে পড়া বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ২৭৪ রানে আটকে রাখতে সক্ষম হয়।
প্রথম ওয়ানডেতেও উজ্জ্বল পারফরম্যান্স উপহার দেন টাইগার দলপতি মিরাজ। নাহিদ রানার প্রথম ফাইফারের ম্যাচে বল হাতে অনন্য ছিলেন এ অলরাউন্ডার। ১০ ওভার বল করে ২৯ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। দুই ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিজের ঝুলিতে নেন মেহেদী মিরাজ। তবে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। পাকিস্তান অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের টপঅর্ডারই ম্যাচ বের করে নেয়।
প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর এমনিতেই চাপে আছে পাকিস্তান। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছিল বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না স্বাগতিকদের জন্য। ওপেনিং জুটিতে দারুণ ব্যাটিং করেন সাহিবজাদা ফারহান ও মাআজ সাদাকাত। মাত্র ১২.৬ ওভারে ১০৩ রান তুলে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তারা।
আজ সাদাকাত ৪৬ বলে ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। অন্যদিকে ফারহান করেন ৪৬ বলে ৩১ রান। শেষ পর্যন্ত তাকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। নাহিদ রানা শামিল হুসেইনকে ৬ রানে ফিরিয়ে দিলে চাপে পড়ে পাকিস্তান। এরপর আক্রমণে এসে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে দেন মিরাজ। রিজওয়ান ৫৯ বলে ৪৪ রান করেছিলেন।
আরও পড়ুন
মাঝের ওভারে পাকিস্তানের হয়ে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সালমান আগা। ৬২ বলে ৬৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল সাতটি চার ও দুটি ছক্কা। রিজওয়ানের সঙ্গে মিলে চতুর্থ উইকেটে ১০৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু ৩৯তম ওভারে ঘটে ম্যাচের অন্যতম নাটকীয় ঘটনা। নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে বল সংগ্রহ করে দ্রুত থ্রো করেন মিরাজ। তখন ক্রিজের বাইরে থাকা সালমান আগা রান আউট হয়ে যান।
তৃতীয় আম্পায়ার রিপ্লে দেখে আউটের সিদ্ধান্ত দিলে হতাশ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান পাকিস্তানি ব্যাটার। পরে সতীর্থ রিজওয়ান এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এই রান আউটের পরই পাকিস্তানের ইনিংসে ধস নামে। ২৩১ রানে তিন বলের ব্যবধানে দুই সেট ব্যাটারকে হারায় তারা এবং শেষ পর্যন্ত বাকি ছয় উইকেট পড়ে মাত্র ৪৩ রানে। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন রিশাদ হোসেন, যিনি ৫৬ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। মিরাজের ঝুলিতে যায় ২ উইকেট। এ ছাড়া একটি করে উইকেট পান তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান।
শেষ পর্যন্ত ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অল আউট হয় পাকিস্তান। ফলে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও নাগালের মধ্যেই থাকা একটি লক্ষ্য।
এএডি/