দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের গুরুত্ব

মমিনুল ইসলাম

ইসলাম

ইসলামি অর্থনীতিতে জাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিকভাবে জাকাত আদায়ের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মাঝে আর্থিক সমতা রক্ষা হয় এবং পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও

2026-03-14T14:57:57+00:00
2026-03-14T14:57:57+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের গুরুত্ব
মমিনুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ২:৫৭ পিএম 
প্রতীকী ছবি
ইসলামি অর্থনীতিতে জাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিকভাবে জাকাত আদায়ের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মাঝে আর্থিক সমতা রক্ষা হয় এবং পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বন্ধন গড়ে ওঠে। জাকাত ফরজের ব্যাপারে মহান আল্লাহ কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো ও রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো’ (সুরা বাকারা : ৪৩)। আল্লাহ তায়ালা জাকাতের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে পবিত্র কুরআনে ৩২ বার জাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন। জাকাত ইসলামের পাঁচটি মূল ভিত্তির মধ্যে অন্যতম। 

যথাযথভাবে জাকাত আদায় করার দ্বারা উপার্জনে বরকত বৃদ্ধি পায় এবং সম্পদের যাবতীয় অমঙ্গল দূর হয়ে যায়। জাকাত আদায়ের আটটি খাত রয়েছে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় সদকা (জাকাত) তো কেবল ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়ের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী, যাদের অন্তর ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফির (পথিক) এদের জন্য নির্ধারিত। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা তওবা : ৬০) 


নিসাব পরিমাণ মালের অধিকারী ব্যক্তির ওপর জাকাত দেওয়া আবশ্যক। জাকাত ফরজ হওয়ার নিসাব হলো কারও কাছে যদি সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা কিংবা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকে এবং তা এক হিজরি বছর পর্যন্ত তার মালিকানায় থাকে, তা হলে তার ওপর জাকাত আদায় করা ফরজ। নিসাব পরিমাণ মাল থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ জাকাত প্রদান না করে হাদিসে তার ব্যাপারে ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা যাকে ধন-সম্পদ দান করেছেন সে যদি ওই সম্পদের জাকাত আদায় না করে, তা হলে তার সম্পদকে কেয়ামতের দিন টাকপড়া বিষধর সাপের রূপ দান করা হবে। যার চোখের ওপর দুটি কালো দাগ থাকবে যা কেয়ামতের দিন তার গলায় বেড়ির মতো প্যাঁচিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর সে সাপটি তার চোয়ালে দংশন করে বলতে থাকবে আমিই তোমার সম্পদ, আমিই তোমার কুক্ষিগত মাল। (বুখারি : ১/১৮৮) 

জাকাত কোনো করুণার বিষয় নয়, বরং ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের মহান আল্লাহর কর্তৃক নির্ধারিত অধিকার। ইসলামে জাকাত ফরজ করা হয়েছে যেন সম্পদ শুধু ধনীদের মাঝে পুঞ্জীভূত না থাকে, বরং কিছু সম্পদ সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টন হয়। ধনীরা যথাযথভাবে জাকাত আদায় করলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে, ফলে সমাজে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে। ধনী-গরিবের মাঝে গড়ে উঠবে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার সেতুবন্ধ। 

প্রায়শই দেখা যায় অনেকে জাকাত আদায় করে পোশাক কিংবা খাবারের মাধ্যমে, এর দ্বারা গরিবদের তেমন কোনো উপকার হয় না। তাই জাকাতের অর্থ দিয়ে কর্মক্ষম বেকার মানুষের জন্য ছোট পুঁজি দিয়ে ব্যবসার ব্যবস্থা করলে, গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দিলে এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করতে সাহায্য করলে বেশি উপকৃত হবে। সর্বোপরি যথাযথভাবে জাকাত আদায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিমোচিত হবে ও একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে উঠবে। 

সময়ের আলো/এনএ 


  বিষয়:   দারিদ্র্য বিমোচনে  জাকাতের গুরুত্ব 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: