গাইবান্ধা পৌর শহরের জুম্মাপাড়া এলাকায় অবস্থিত পৌর মহাশ্মশানের জমি রাতের অন্ধকারে কংক্রিটের খুঁটি বসিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে শ্মশান কমিটির সভাপতিকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তা এখনো মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ শ্মশান কমিটির নেতাদের।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে পৌর মহাশ্মশান এলাকায় প্রবেশ করেন। তাদের হাতে লাঠি ও লোহার রড ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তারা শ্মশানের জমিতে কংক্রিটের খুঁটি স্থাপন করে জায়গা দখলের প্রস্তুতি নেন।
বিষয়টি জানতে পেরে গাইবান্ধা পৌর মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি রবিন সেনসহ স্থানীয় কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। রবিন সেন অভিযোগ করেন, আমরা দখল চেষ্টা ঠেকাতে গেলে তারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে আমাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। কিল-ঘুসি ও চড়-থাপ্পড়ে আমাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা শ্মশান দখলের হুমকি দিয়ে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখান। পরদিন তিনি গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে মো. মাসুদ রানাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, থানায় লিখিত আবেদন দেওয়ার পরও তা এখনো মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গাইবান্ধা পৌরসভার অধীন এই মহাশ্মশানটি দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃত ব্যক্তিদের শেষকৃত্য সম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ধর্মীয় মর্যাদা ও সামাজিক গুরুত্বের কারণে এলাকাবাসীর কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। পৌর মহাশ্মশান কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পৌর মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি রবিন সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যুগ যুগ ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই মহাশ্মশানে মরদেহ সৎকার করে আসছেন। কাগজপত্রে এটি মহাশ্মশানের সম্পত্তি হিসেবে থাকলেও একটি কুচক্রী মহল জমিটি দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধন থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সদর থানায় দেওয়া অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং অভিযুক্ত মো. মাসুদ রানা ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। অন্যথায়, গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ স্থান নিয়ে বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন মিহির ঘোষ, সাংবাদিক জাভেদ হোসেন, হেদায়েতুল ইসলাম বাবু, লালচান বিশ্বাস সুমন, চঞ্চল সাহা, বিমল চন্দ্র দাস, সুমন চক্রবর্তী এবং পৌর মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক সরকারসহ অনেকে।
সময়ের আলো/জোই/এনএ