বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের একসময়ের কচুরিপানা আর আবর্জনায় ঠাসা চিলু মাঝি খাল এখন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটিয়ে পুনঃখননের ফলে এই খালে এখন বইছে জীবনের স্রোত।
মশা-মাছির উপদ্রব, দুর্গন্ধ এবং শুকনো মৌসুমে সেচের পানির অভাবে কৃষকেরা ঠিকমতো ফসল উৎপাদন করতে পারতেন না। তবে খাল খননের ফলে এখন সেই খালে ফিরেছে জীবনের স্রোত।
শনিবার (১৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এই খালে একটি ব্যতিক্রমী প্রতীকী কর্মসূচি পালন করে।
খালের তীরে দাঁড়িয়ে গ্রামের শিশুদের উচ্ছ্বাস আর কাগজের নৌকা ভাসানোর মধ্য দিয়ে মরা খাল জীবন্ত হয়ে ওঠার আনন্দ উদযাপন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সচেতনতার পর সরকার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির মাধ্যমে প্রায় ১৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
খাল পুনঃখননের ফলে এখন সেচের পানি সহজেই কৃষিজমিতে পৌঁছাচ্ছে। এতে নলবুনিয়া, চিলু মাঝি, সুন্দরিয়া, তাতীপাড়া এবং পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া এলাকার কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন এবং বছরে একাধিকবার ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাচ্ছেন।
কৃষক জালাল মিয়া ও জুয়েল জানান, আগে যেখানে বছরে মাত্র একবার ফসল হতো, এখন সেচের পানি সহজলভ্য হওয়ায় বছরে দুই থেকে তিনবার চাষাবাদ করা সম্ভব হবে, যা তাদের আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস জানিয়েছেন, খালগুলো সচল হওয়ায় এক ফসলি জমি এখন বহু ফসলি জমিতে পরিণত হবে, যা কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
এলজিইডির তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রকল্পের আওতায় খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খাল পুনঃখননের এই উদ্যোগ শুধু কৃষিকাজেই নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও আশার বার্তা হয়ে উঠেছে।
সময়ের আলো/আরবিএন