মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে দুই কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে আব্দুর রউফ নামে এক কথিত সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে এই ঘটনা ঘটে। আব্দুর রউফ শহরের মল্লিক পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আব্দুর রউফ তার নিজ আইডিতে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েকটি সেলফি প্রকাশ করে। এরপর থেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরে নিজেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন জানান, ৫ আগষ্টের পর আমাকে ও অফিসের প্রধান সহকারী মোশারফ হোসেনকে বিভিন্ন সময় অফিসের বিভিন্ন কাগজপত্র চেয়ে ও অনিয়মের মিথ্যা অভিযোগ ও বদলি করার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মুঠোফোনে কলসহ হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক মেসেজ দিয়ে নানা ধরনের হুমকি দিত। সরকার গঠনের পর আব্দুর রউফ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে সে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। সকালে অফিসে এসে একই দাবি করে। এক পর্যায়ে সে চাপ প্রয়োগ করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, আমি যখন অফিসে থাকি না সেই সময়টা বেছে নিয়েই এই আব্দুর রউফ বারবার আসে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে আমি লিখিত আবেদন করবো সরকারি কাজে বাধা দানের কারণে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, চাঁদাবাজি চেষ্টার অভিযোগে আব্দুর রউফ নামে এক ব্যক্তিকে সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে এসেছে। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে চাঁদা দাবির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই/এমএইচআর