ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের আধুনিকায়নে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও এবারের ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য বড় এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ চৌরাস্তা। নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার ও ছয় লেন সড়কের কাজের ধীরগতির কারণে, এই পয়েন্টটি উত্তরের ১৬ জেলার মানুষের জন্য ‘বটলনেক’ বা যানজটের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার পান্থাপাড়া থেকে বোয়ালিয়া মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় ফ্লাইওভার ও র্যাম্প নির্মাণকাজ চলছে। এ সময় মূল মহাসড়কের বড় অংশ বন্ধ থাকায় সার্ভিস লেন দিয়েই গাড়ি চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক সময়েই এখানে ধীরগতি ও যানজট দেখা যায়। ঈদ উপলক্ষ্যে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। বগুড়ার মোকামতলা থেকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পর্যন্ত ৩০.১৫ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। এছাড়া পলাশবাড়ী থেকে বড়দরগাহ পর্যন্ত ২৭.২ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৮০ কোটি টাকা।
এক পরিবহন চালক বলেন, ফ্লাইওভারের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায়ই এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জট লেগে থাকে। ঈদের সময় এই চাপ আরও বাড়বে।
আরেক বাসচালক জানান, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও রংপুর অংশে ছয় লেনের কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় গাড়িগুলো দ্রুতগতিতে এসে গোবিন্দগঞ্জে ঢুকে পড়ে। কিন্তু এখানে এসে হঠাৎ সংকীর্ণ দুই লেনে নামতে হওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। এতে যানজট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি, এস্কেভেটর (ভেকু), বালু-পাথর ও রডবাহী ট্রাক অনেক সময় সড়কের পাশে রাখা থাকে। এতে চলাচলের জায়গা আরও কমে যায়। পাশাপাশি ধুলোবালির কারণে অনেক সময় সামনে রাস্তা পরিষ্কার দেখা যায় না। ভাঙাচোরা ডাইভারশন দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে, যা যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
এক যাত্রী বলেন, যেখানে পাঁচ-ছয় ঘণ্টায় বাড়ি পৌঁছানোর কথা, সেখানে কখনো আট থেকে দশ ঘণ্টাও লেগে যায়। ঈদের সময় এই ভোগান্তি আরও বাড়বে।
গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোস্তফা আল মামুন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ট্রাফিক পুলিশের নয়জন সদস্যের পাশাপাশি থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা ট্রাফিক পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রাখতে নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন, ১৫ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত গোবিন্দগঞ্জের ছয় লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি চৌরাস্তায় পুলিশ বক্স স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের মতে, এসব ব্যবস্থার পরও গোবিন্দগঞ্জ চৌরাস্তা এবারের ঈদযাত্রায় উত্তরের মানুষের জন্য বড় এক ‘বটলনেক’ হয়ে উঠতে পারে। তাই ঈদের আগে নির্মাণকাজের এলাকায় আরও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এফআর