বাড়ির ছাদ যেন এক টুকরো বিদেশের নার্সারি! টবে টবে ঝুলছে মেক্সিকান আনার, মরোক্কান কমলা আর ব্ল্যাক ডায়মন্ড জামরুলের মতো দুষ্প্রাপ্য সব ফল। বলছিলাম, নওগাঁর ধামইরহাট এমএম সরকারি ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মিনহাজুল হক সরকার শিবলীর ছাদ বাগানের কথা।
ব্যতিক্রমী ছাদ বাগানের মাধ্যমে এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলেছেন মিনহাজুল হক। তার বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা গাছ-প্রেমী ও বাগান মালিকেরা।
শিক্ষক মিনহাজুল হকের বাসাটি ধামইরহাট থানার সামনে পৌর শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ডে দক্ষিণ চকযদু এলাকার। বাসার ছাদে প্লাস্টিকের ড্রাম এবং সিমেন্টের বস্তা কেটে বানিয়েছেন ছোট-বড় টব। এসব টবে উচ্চ ফলনশীল মেক্সিকান জি-১৩৭, মৃধুলা, আরক্তা, রুবি এবং পারফিয়ানকা গাছের ডালে শোভা পাচ্ছে ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের লাল টকটকে আনার। যা আমদানিকৃত আনারের চাইতে স্বাদে এবং গুনে কোনো অংশে কম নয়।
ছাঁদ বাগানের সফলতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মিনহাজুল সময়ের আলোকে বলেন, দুষ্প্রাপ্য দেশি এবং বিদেশি জাতের ফলের গাছ সংগ্রহ করায় ছিল তার নেশা। একদিন কৃষিবিদ শাইখ সিরাজের ইউটিউব চ্যানেল নজরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় ছাদ বাগানের বিষয়ে আগ্রহী ওঠেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মেয়ে রোজাইনা শেহজীনের শখ পুরণ করতে গিয়ে প্রথমে দুইটি গাছ দিয়ে ছাদ বাগানের যাত্রা শুরু করা হয়। এরপর ঢাকা, যশোর, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যখন যেখানে বেড়াতে যাই, ওই এলাকার নার্সারি থেকে বিভিন্ন জাতের ফল গাছের চারা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
এভাবেই বেদনা, মাল্টা, কমলা, সাদা জামসহ ছাঁদ বাগানে প্রায় দুইশটি জাতের বিদেশি ফলের গাছ সংগ্রহে রয়েছে তার। পর্যায়ক্রমে এই সংগ্রহ আরও বৃদ্ধি করা হবে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
তার সংগ্রহে থাকা ১৬ জাতের বেদনা (আনার) গাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- মেক্সিকান জাতের উচ্চ ফলনশীল জি-১৩৭, ভাগওয়া, গণেশ, মৃধুলা, আরক্তা, রুবি এবং পারফিয়ানকা জাত।
এছাড়াও মালটা এবং কমলার মধ্যে আফোরের ম্যান্ডারিন, কাশ্মীরি কেনু, থাই টু কমলা, চায়না জাতের কমলা, মরোক্কান, ভিয়েতনাম, সায়ন, পাকিস্তানি, পাওকিনু, সুইট ম্যান্ডারিন এবং কাশ্মীরা কেন্না জাতের কমলা।
রয়েছে ভিয়েতনাম বারোমাসি মাল্টা, ইন্ডিয়ান সিকি মুসাম্বী, ওভাল কালা ব্রিজ এবং ফিজি জাতের মাল্টা, ব্লাক টমেটো, রাজস্থানী জাতের সাদা জাম, ব্ল্যাক ডায়মন্ড জামরুল, ইন্ডিয়ান রেডমি মিসাইল, নাশপাতিসহ নানান জাতের আঙ্গুরের গাছ।
অন্যদিকে, তার বাগানের গাছের ডালে-ডালে শোভা পাচ্ছে ব্লাক টমেটো, রাজস্থানী জাতের সাদা জাম, ব্ল্যাক ডায়মন্ড জামরুল, ইন্ডিয়ান রেডমি মিসাইল, নাশপাতিসহ আঙ্গুর ফল। যা দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। এমনকি বাদ যায়নি শিশুরাও।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তৌফিক আল জুবায়ের সময়ের আলোকে বলেন, দুষ্প্রাপ্য এবং অপ্রতুল বিদেশি ফলের ছাদ বাগান করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন প্রভাষক মিনহাজুল হক। যা বিদেশ থেকে আমদানি করা বেদেনা, মাল্টা, কমলা ও আঙ্গুরের চাইতে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এবং খেতে অনেক সুস্বাদু।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমাদের জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তাই যারা শৌখিন কৃষক রয়েছেন, তারা কৃষি অফিসের পরামর্শে ফলজ, বনজ এবং মৌসুমীসহ সব রকম বৃক্ষ ছাঁদের উপর চাষাবাদ শুরু করেছেন। এতে করে তাদের নিজেদের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বেকার যুবকেরা বসে না থেকে ছাদ বাগান করলে, নিজেদের খাদ্য যোগানের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন বলেও পরামর্শ দেন এ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
এফআর