মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবারও পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ, ২০২৬) রাজধানী নেপিডোতে নবনির্বাচিত পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের এই প্রথম অধিবেশন বসে।
তবে প্রধান বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণহীন এই নির্বাচন এবং নতুন পার্লামেন্টকে ‘ভুয়া’ ও ‘অবৈধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ও আসিয়ানসহ বিভিন্ন মহল।
পাঁচ বছরের বিরতির পর বসা এই পার্লামেন্টে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও জান্তা সহযোগীরাই প্রভাবশালী পদে আসীন হয়েছেন।
নিম্নকক্ষের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কীন ইয়ি, যিনি সাবেক পুলিশ প্রধান, অভিবাসন মন্ত্রী এবং বর্তমান জান্তা সমর্থিত দল ইউএসডিপির চেয়ারম্যান।
সামরিক বাহিনী সংবিধানে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ২৫ শতাংশ আসন ধরে রাখার পাশাপাশি একটি বিশেষ ‘সুপারবডি’ গঠনের মাধ্যমে সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণকে আরও পাকাপোক্ত করেছে।
পার্লামেন্ট বসলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সশস্ত্র সংঘাত ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ করে উত্তর শান রাজ্যের কুতকাই শহরে সাবেক মিত্র দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠী এমডিএনএএ এবং টিএনএলএ’র মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
২০২৩-২০২৫ সালের সামরিক অভিযানের সময় এই দুই বাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়লেও এখন শহর ও বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।
বর্তমানে কুতকাই শহর ও এর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর নিয়ন্ত্রণ এমডিএনএএ’র হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে দক্ষিণ মিয়ানমারের থানেটচৌং এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর সেনাবাহিনীর নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী একটি গ্রাম ত্যাগের সময় সেখানে হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত সাতজন সাধারণ নাগরিককে হত্যা করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিরোধী ছায়া সরকার (সিআরপিএইচ) এই নতুন পার্লামেন্টকে স্বীকৃতি দেয়নি।
তাদের মতে, বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে আয়োজিত এই প্রক্রিয়াটি জান্তা সরকারের ক্ষমতা বৈধ করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।