তুমি আমার বোন হও
বাবুই দৃশ্যরা আসে, ঘুমুলেই হয়
চোখের ঘুমের স্বার্থক হয়
দেখি ছোট্ট মেয়ে তার দল মেলছে
ফুলেল কথা গাইছে...
তুমি আমার বোন হও, নিঃশব্দে।
আমরা একই আবেশের তলায় দাঁড়িয়ে হাতে—
হাত রাখি।
সহজ
তুমি এসেছিলে সহজ। তোমার পায়ের নখগুলো ছিলো অযত্নে
বেড়ে ওঠা। যেমন আমাদের বুকের ভেতর বেড়ে উঠে পরাবাস্তব
শহর। দালির ঘড়ি।
তুমি হাসছিলে তোমার হাসি। বাতাসে তোমার চুলগুলো ভিজে যাচ্ছিলো...
“আমাকেও বহন করো।”
— এই ছিলো আমার মনের দশা। সূর্য্যগ্রস্থ, চন্দ্রগ্রস্থ...
এবং তুমি বহন করেছিলে, “আমাকেও বহন করো।” আর আমরা
দিক পরিবর্তন করেছিলাম। তেরোটি স্বর্ণমুকুটে শোভিত অত্যুজ্জ্বল
সূর্যের নীচে। আমি আঁকড়ে ধরেছিলাম তোমার হাত। তুমি হয়ে
উঠেছিলে সন্তানসম্ভবা...
তোমার ঘুমের শিশুকে আমার সেকুইয়া বৃক্ষ মনে হচ্ছিলো। যখন
সে জেগে উঠলো, জেগে উঠলো একজন—শিশু।
তুমি এসেছিলে সহজ। তোমার পায়ের নখগুলো ছিলো অযত্নে
বেড়ে ওঠা। যেমন আমাদের বুকের ভেতর বেড়ে উঠে পরাবাস্তব
শহর। দালির ঘড়ি।
আমার মৃত বোন
আমার মৃত বোনকে মনে আসছে
বাইরে জোড়ভ্রু বৃষ্টি, লালজামা ভিজে
উঠোনে সপসপে হয়ে যেতো
সে ছিল বুক ধড়ফড়ে সুন্দর
সহসা আমার নিকটবর্তী বোন
কাজলটানা হরিণী চোখের
সে বিষন্ন খেলাফত দান করে গেছে আমাকে
বাইরে জোড়ভ্রু বৃষ্টি, সপসপে উঠোন
আমার অবোধ্য বুকে বোন জমছে
কামিনী ফুল গাছ
কামিনী ফুল গাছ দেখা হলো।
বাড়িতে ছিল একটি কামিনী ফুলের গাছ।
সরল কাণ্ড সহজ সবুজ পত্রালি।
আমরা তাকিয়ে ছিলাম পরস্পরের দিকে।
সাধ্যাতীত আকৃতির একটি কামিনী ফুল গাছ।
ক্রমশ বেড়ে উঠছে। আমি তাকে বাড়িয়ে তুলছি।
আজকে আহলুদ রোদের দিন।
একটি কামিনী ফুল গাছ।
আমরা তাকালাম পরস্পরের দিকে।
বাড়ি ফেরার কবিতা
বাড়ি ফেরার মাঝে আছি
সারাটা ভেজাদিন আমার মনের ভেতর
ঝোঁকে আছে শব্দ করা শিশুগাছ
অয়োময় কোলাহল
আমার একা মা তীব্র ওইখানে
নিম্নস্বর বসে আছে
বোনের চাদরে আমার সমস্ত শরীর ঢাকা
প্রতিবেশে সমানে নিম্নচাপ ঘটছে
আমার বাবার ভেতর বড়সড় এক সোনাব্যাঙ
স্বেচ্ছাধীন বর্ষায় তারস্বরে চেঁচাচ্ছে
বাবার দুঃখিত মৃত্যুতে কখন লাফ দিয়ে
ভেতরে ঢুকে গেছে টেরও পাইনি
বাড়ি ফেরার মাঝে আছি
সারাটা ভেজাদিন আমার মনের ভেতর
ঝোঁকে আছে শব্দ করা শিশুগাছ
অয়োময় কোলাহল